টিআরএম চালুর দাবিতে ডিসি অফিস চত্বরে দ্বিতীয় দিনেও শত শত মানুষ

আরো পড়ুন

প্রতিনিধি: দুপুর সাড়ে ১২টা। যশোর ডিসি অফিস চত্বরে শত শত নারী-পুরুষ বসে আছেন। হ্যান্ডমাইকে বক্তৃতা চলছে। মাঝে মাঝে স্লোগান উঠছে। হিম রক্ত, গরম করা স্লোগান। বয়সের ভারে ন্যুব্জ অনেকে সেই শ্লোগানে শরিক হচ্ছেন। জীবন বাঁচাতে-জীবিকা বাঁচাতে এই স্লোগান।

বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে যারা এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন ভুলবাড়িয়া গ্রামের হরেকৃষ্ণ বিশ্বাস। বয়স ৭০ এর কাছাকাছি। কাছে গিয়ে জানতে চাইলেই বলে চললেন, ‘উঠোনে জল, না খেয়ে এখানে এসেছি। যে অবস্থা সামনে ব্লক (বোরো ধান) হবে না। না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।’

পাশে বসা নেবুগাতি গ্রামের শিবপদ রায় বলে উঠলেন, ‘আমাগে বাঁচাতে সরকার অনেক পয়সা দেচ্ছে। কিন্তু সব টাকা আউট হয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী-এমপি-আমলারা নিলে সব খেয়ে নিচ্ছে। আমরা টিআরএম চাই। টিআরএম হলেই এলাকার মানুষ বেঁচে যাবে। সরাসরি সেনাবাহিনী দিয়েই এই কাজ করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

আন্দোলনের শরিক হওয়া ভবদাহ এলাকার সাবেক শিক্ষক ভগিরথ হালদার বললেন, ‘আমাদের একমাত্র সমস্যা ভবদাহ। নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সংস্কার করা হচ্ছে না। মেশিন লাগিয়ে সেচ প্রকল্পের নামে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। অথচ এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ টিআরএম। টিআরএম চালু হলে নদীতে জমা পলি এমনিতেই অপসারণ হয়ে যাবে। তাই আমরা চাই দ্রুত টিআরএম চালু হোক। তাহলে ভবদহ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো যাবে।’

আন্দোলনে অংশ নিতে আসা এলাকার ভুক্তভোগীরা জানালেন, এখনো ওই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের বাড়িতে পানি। স্কুল কলেজের মাঠে পানি জমে আছে। এখন চলছে বোরো মৌসুম। এই মৌসুমে কৃষি কাজ নিয়ে তাদের ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে তারা এখন বেকার এবং ভবিষ্যতে না মরার উপক্রম হয়েছে। তাই এই লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি দিতে তারা বাধ্য হয়েছেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে ভবদাহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এই কমিটির ডাকেই রবিবার থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির পালন করা হচ্ছে। সোমবার দ্বিতীয় দিনে কর্মসূচি শুরু হয় সকাল দশটার দিকে। যা চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে ডিসি অফিস চত্বরে শত শত নারী-পুরুষ অবস্থান নিয়ে তাদের দাবির পক্ষে মুহুর্মুহু স্লোগান দেন।

এসময় বক্তৃতা করেন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল করিব জাহিদ, কমিটির আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালি সদস্যসচিব চৈতন্য পাল, কমিটির নেতা আব্দুল হামিদ গাজী, শিবপদ বিশ্বাস, কার্ত্তিক বকসি, ভগিরথ হালদার, অধ্যাপক অনিল বিশ্বাস, দীপঙ্কর বকশি, কমল মধু, যশোর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু প্রমুখ। এছাড়া সংগতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস।

জাগোবাংলাদেশ/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ