যশোরের রেলগেট চোরমারা দিঘিরপাড় এলাকার মিজানুর রহমান মিন্টু ও তার স্ত্রী কুমারি বৃষ্টি রানী (ওরফে বৃষ্টি বেগম/মারিয়া নূর বৃষ্টি) দম্পতির বিরুদ্ধে কোটি টাকা প্রতারণা এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বড় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরও তারা ক্ষান্ত হননি। উল্টো, ভুক্তভোগী ও পাওনাদারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি করে হয়রানি করে চলেছেন।
> প্রতারণার শিকার হয়ে শ’ শ’ যুবক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ দম্পতি প্রতারণার মাধ্যমে যশোর, নাটোর, খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করে চলেছেন।
>
প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত এই দম্পতি ক’দিন আগে আটক হলেও, স্ত্রী বৃষ্টি রানী জামিন পেয়ে তার প্রতারণা ও হয়রানির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। নিজের ও স্বামীর প্রতারণা চক্রকে ব্যবহার করে সহজ-সরল বিদেশ গমনেচ্ছুকদের মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছেন।
এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিকার এবং প্রতারক দম্পতি ও তাদের সহযোগীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার প্রেস ক্লাব যশোরে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
মামলা ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী:
* বিশাল প্রতারণা: এই দম্পতি কানাডা ও পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে অন্তত ৪০ জন বিদেশ গমনেচ্ছুকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
* কার্যালয় পরিবর্তন: প্রথমে যশোর থেকে প্রতারণা করার পর, টাকা হাতিয়ে মিন্টু ও বৃষ্টি নাটোরে আস্তানা গাড়েন এবং সেখানে ‘ইউরো ভিসা হেল্প সেন্টার বিডি’ নামে নতুন অফিস খুলে আবার প্রতারণা শুরু করেন।
* ভুক্তভোগীর করুণ দশাপ: বাঘারপাড়া উপজেলার নাঈমুল হক নাবিল (২৩) কানাডায় যাওয়ার জন্য মায়ের জমি বিক্রি ও ঋণ করে মোট ১৫ লাখ টাকা মিন্টুর হাতে তুলে দেন। এখন তিনি পাসপোর্ট-ভিসা বা টাকা কোনোটাই ফেরত পাচ্ছেন না।
* আইন প্রয়োগ: নাঈমুল হকের ভগ্নিপতি শেখ হাসানুর রহমান ২৭ সেপ্টেম্বর যশোরের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে, বাবলুর রহমান নামে আরেক ভুক্তভোগী ১৮ সেপ্টেম্বর নাটোর সদর থানায় অভিযোগ দেন।
* গ্রেফতার: ৪ জন যুবকের কাছ থেকে ৫৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর কোতোয়ালি থানা পুলিশ নাটোর থেকে মিন্টু ও বৃষ্টিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
অল্প দিনেই জামিন পেয়ে স্ত্রী বৃষ্টি রানী হয়রানির নতুন পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি:
* মিথ্যা মামলা: টাকা ফেরত চাওয়া ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে জাল স্ট্যাম্প, ভুয়া নোটারি পাবলিক ও জাল সরকারি কাগজ তৈরি করে চক্রান্তমূলক মামলা দিচ্ছেন।
* হুমকি: জামিনের সুযোগ নিয়ে বৃষ্টি আরও বেশি সাহস সঞ্চয় করেছেন এবং কেউ প্রতিবাদ করলেই আইসিটি মামলা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। সান্টু, বিভাজন, হৃদয় মিয়া, অপু, বাবলুসহ প্রায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
* জাল নথি: ভুয়া ভিসা, ভুয়া স্ট্যাম্প, ভুয়া চুক্তিপত্র, ভুয়া বিএমইটি কার্ড এবং ভুয়া প্লেনের টিকিট বানিয়ে তারা নয়া প্রতারণা করছেন।
ভুক্তভোগী নাঈমুল হক নাবিল সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃষ্টি রানী যশোর থেকে ‘ভুয়া প্রেগন্যান্সি’ দেখিয়ে এবং মিন্টু তার স্বামী নন— এমন মিথ্যা দাবি করে জামিন পেয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তারা নাটোরের ডাক্তার তাপস গোস্বামীর নামে ভুয়া স্ট্যাম্প তৈরি করেছেন, যা সম্পর্কে ডাক্তার কিছুই জানেন না। তাদের কোনো সই-ই আসল সইয়ের সাথে মেলে না।
ভুক্তভোগীরা মিন্টু-বৃষ্টি দম্পতির দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। তারা চান তাদের আত্মসাৎ করা টাকা ও পাসপোর্ট অবিলম্বে ফেরত দেওয়া হোক। তাদের অভিযোগ, বৃষ্টি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে ভিকটিমদের হুমকি দিচ্ছেন এবং শেখ হাসানুর রহমানের সঙ্গে একটি গাড়ি প্রতারণাও করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য: নাটোর সদর থানার এসআই জামাল উদ্দিন জানান, তদন্তে জানা গেছে যে মিজানুর রহমান বিভিন্ন জেলায় অফিস খুলে শ্রমিক পাঠানোর নামে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হন এবং কিছুদিন পর অন্য জেলায় নতুন অফিস খোলেন। নাটোরের অফিসেও দিনের বেলায় তালা ঝোলানো থাকে, রাতে মাত্র ২-৩ ঘণ্টার জন্য খোলা হয়।
?

