যশোর প্রতিনিধি |
যশোর ও সীমান্ত অঞ্চলের ত্রাস, ৫টি হত্যাসহ ১৪টি মামলার কুখ্যাত আসামি শামীম কবির ওরফে কিলার শামীম (৪৫) এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে। দাপটের সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশে অপরাধ সাম্রাজ্য চালানো এই শীর্ষ সন্ত্রাসী বর্তমানে ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে সোনা চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্রের কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
কিলার শামীমের অপরাধ জগতে হাতেখড়ি ১৯৯৪ সালে এক বিএনপি কর্মীকে কোপানোর মধ্য দিয়ে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ১৯৯৯ সালে বিএনপি নেতা মকবুল ও সহিদুল হত্যা এবং ২০১২ সালে শিশু সৌরভ সাহা অপহরণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তার নাম উঠে আসে। ২০১৩ সালে চৌগাছার সিংহঝুলী ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান মিন্টুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সে প্রধান অভিযুক্ত। এছাড়া ভারতে আত্মগোপনে থাকাকালীন সেখানেও একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
এক সময় চৌগাছার সিংহঝুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেওয়া শামীম সবসময় প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট ছিল। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি নেতা শাহাবুদ্দীন সাবু বর্তমানে তাকে ঢাকায় আশ্রয় দিচ্ছেন। এই সাবু নিজেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং ২০১৩ সালে বিএনপির কর্মসূচিতে বোমা সরবরাহের অন্যতম হোতা ছিলেন।
নেপথ্যে থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ
সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শামীম এলাকা ছাড়লেও তার সিন্ডিকেট এখনও সচল। ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম সাগরের মাধ্যমে সে এলাকা থেকে নিয়মিত তথ্য ও অর্থ সংগ্রহ করছে। এছাড়া শার্শার নাভারণের সাবেক চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন এবং সীমান্ত এলাকার শফিকুল মেম্বারের সহযোগিতায় সোনা ও অস্ত্র চোরাচালানের রুটগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে শামীম।
কিলার শামীম কেবল অভিযুক্তই নয়, দুটি পৃথক অস্ত্র মামলায় ইতিমধ্যে ৭ ও ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দীর্ঘ সময় ভারতে পালিয়ে থাকার পর বর্তমানে সে দেশে ফিরে ফের অপরাধ নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, “শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। শামীমসহ সকল তালিকাভুক্ত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খুব দ্রুতই অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হবে।”

