যশোর প্রতিনিধি, যশোর -২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষনার পর থেকে তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরদের মধ্যে নিমে এসেছে ‘অসহনীয় শোকের কালো অন্ধকার’। নেয় ভোটের আমেজ, নেয় ভোট চাওয়ার হাক-ডাক। ফলে সাবিরা নাজমুল মুন্নি নাম ঘোষণার পর থেকে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে এ দুই উপজেলার বিএনপির তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যশোর-২ এ ঘোষিত প্রার্থীকে নিয়ে জামায়াতের ঘাঁটিখ্যাত এ আসনে লড়াই করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। কারণ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ দলীয় প্রভাবের বাইরে নানা সমীকরণে এগিয়ে রয়েছেন। জমায়েতকে পরাজিত করতে হলে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন করা ছাড়া কোন পথ খুলা নেই।
তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা বলছে, যশোরের ভারত সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা ঝিকরগাছা ও চৌগাছা নিয়ে যশোর-২ আসন গঠিত। গত চারটি একতরফা সংসদ নির্বাচনের তিনটিতেই আওয়ামী লীগ এ আসনটিতে ইচ্ছাখুশিমতো প্রার্থী দিয়ে সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। তবে এবার মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। আগামী সংসদ নির্বাচনে মূলত বিএনপি প্রার্থীর সাথে জামায়াত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে, তা মোটামুটি স্পষ্ট। জেলার অন্য আসনগুলোর মতো জামায়াত অনেক আগেই এ আসনেও তাদের প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে। কিন্তু বিএনপি তাদের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে গত ৩ নভেম্বর। এ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নী। অপরদিকে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডাঃ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। তিনি ছাত্র জীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি যশোরের বিখ্যাত খড়কী পীর বাড়ির সন্তান সর্বজনশ্রদ্ধেয় অধ্যাপক শরিফ হোসেনের সন্তান। পাশাপাশি দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আদ্ব-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ শেখ মহিউদ্দিনের শ্যালক। ঝিকরগাছা-চৌগাছা জুড়ে এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক প্রভাব বলয় রয়েছে। এ ধরনের নানা সমীকরণে জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটিখ্যাত এ আসনে হেবিওয়েট প্রার্থী বনে গেছেন ডাঃ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। তার বিপরীতে লড়াইয়ে নারী প্রার্থীর মনোনয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
স্থানীয়রা কর্মী সমর্থকদের দাবি, মনোনয়ন প্রত্যাশী যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, চৌগাছা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুনের থেকে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা সাবিরা সুলতানাকে সহানুভূতি দেখিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করা কঠিন হবে। এজন্য দ্রুত প্রার্থী পরিবর্তন করে নতুন পুরুষ প্রার্থী ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।

