যশোরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। একটি মামলার আসামিরা হাজিরা দিতে এলে মামলার বাদী ও তার সহযোগীরা তাদের অপহরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের নিয়ে ‘মব’ তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে মামলার বাদী শ্রমিক নেতা রবিউল ইসলাম মিন্টু গাজীকে দেড় ঘণ্টা কাঠগড়ায় আটকে রাখেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে যশোর আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মামলার বাদী মিন্টু গাজীর নেতৃত্বে ৮-১০ জন বহিরাগত ব্যক্তি হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তারা আসামিদের লক্ষ্য করে “এরা স্বৈরাচারের দোসর, এদের ধরে ফেলো” বলে স্লোগান দিতে থাকেন এবং একটি মব তৈরির চেষ্টা করেন। এতে সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে নির্দেশ দেন বাদী মিন্টু গাজীকে ধরে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে। আদালতের নির্দেশে তাকে দেড় ঘণ্টা কাঠগড়ায় আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না মর্মে মুচলেকা প্রদান করলে আদালত তাকে মুক্তি দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মিন্টু গাজী সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা উপজেলার সাতজনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামি ইয়াকুব ফকিরসহ অন্যরা প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং বাকি ১০ লাখ টাকার জন্য ফাঁকা স্টাম্পে সই নিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম (৩) বলেন, “আজ এই মামলার ছয়জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসেছিলেন। কিন্তু বাদী মিন্টু গাজী বহিরাগতদের নিয়ে তাদের অপহরণের চেষ্টা করেন এবং আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। আমরা বিষয়টি বিজ্ঞ বিচারককে অবহিত করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেন।”
তিনি আরও জানান, শুনানি শেষে আদালত ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। অন্য একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে শিশু আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত চত্বরে এভাবে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে মব তৈরির চেষ্টায় আইনজীবীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বিচারপ্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা যে-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।

