দীর্ঘ আইনি লড়াই ও পারিবারিক ট্র্যাজেডির পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম। বুধবার দুপুর ২টার দিকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে কারামুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার মো. আসিফ উদ্দিন।
কারাগার থেকে বের হয়েই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাদ্দাম। তিনি জানান, তার মন এখন শুধু স্ত্রী ও সন্তানের কবরের কাছে যেতে ছটফট করছে। গত ২৪ জানুয়ারি যশোর জেলগেটেই অ্যাম্বুলেন্সে রাখা স্ত্রী কানিজ স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশুসন্তান নাজিফের নিথর দেহ মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, সাদ্দামের মুক্তির দাবিতে তার স্ত্রী সন্তান অত্মহত্যা করেছিলেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
মুক্তির পর সাদ্দাম যশোর ও বাগেরহাট জেলা কারাগারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তার উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো:
: যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বন্দিদের দিয়ে নিয়মবহির্ভূত কাজ করান।
: জেলারের মানসিক নির্যাতনের কারণে সম্প্রতি কারাগারে বন্দির আত্মহত্যা ও স্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।: জামিনের আদেশ পৌঁছানোর পরও তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হতো বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাদ্দাম আক্ষেপ করে বলেন, “আমি কোনো দখলবাজি বা সন্ত্রাসের সঙ্গে ছিলাম না। আমি তো বড় কোনো নেতা নই, স্রেফ উপজেলা সভাপতি ছিলাম। এই যে আমার সাজানো সংসার তছনছ হলো, এর দায়ভার কে নেবে?”
২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাদ্দামকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একটি মামলায় জামিন পেলেই অন্য মামলায় তাকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হতো। এভাবে মোট ছয়টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর সর্বশেষ গত ১৮ ডিসেম্বরের মামলায় গত ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের জামিন প্রদান করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

