যশোর প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।বেনাপোল, ২৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার – আসন্ন ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেনাপোল পৌরসভার বড় আচড়া ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ উঠান বৈঠক। এতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক প্রাপ্ত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জনাব মফিকুল হাসান তৃপ্তি অংশগ্রহণ করেন। বেনাপোল স্থলবন্দর সংলগ্ন এই জনবহুল এলাকায় নারী ও পুরুষ উভয়েরই স্বতঃস্ফূর্ত এবং ব্যাপক উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে শুরু থেকেই উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসে পরিপূর্ণ করে তোলে।

এলাকাবাসী তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন”
উঠান বৈঠকে মফিকুল হাসান তৃপ্তি আবেগের সাথে বলেন, “আমি এই এলাকারই সন্তান। শৈশব থেকে চোখের সামনে দেখেছি—বেনাপোল স্থলবন্দর পাশের এই এলাকার সম্ভাবনা ঠিক কতটা বিশাল, আর অবহেলা কতটা ভয়াবহ। রেললাইনের পাশের বস্তিতে গরিব মানুষ যেভাবে অসম্মান, অনিরাপত্তা এবং অমর্যাদার মধ্যে জীবনযাপন করছে—সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি, অনুভব করেছি। তাই আমি বলতে চাই, এই এলাকার মানুষ যে মানবিক পরিবেশ পাওয়ার অধিকার রাখে—এটা আমার রক্তে আছে।”
তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন:
* উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং তিনি এমপি নির্বাচিত হলে, বড় আচড়ার প্রতিটি পরিবার যেন নিরাপদ আবাসন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং ন্যূনতম মানবিক সুযোগ-সুবিধা পায়—এটাই হবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
* কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে প্রাপ্ত হাজার কোটি টাকা রাজস্বের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ক্ষণিককালীন সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
* ভৌত অবকাঠামো ও আধুনিু
কীকরণ: রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, স্ট্রিট লাইট, এবং নিরাপত্তা—এসব বাস্তব চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন করা হবে।
* শিক্ষা ও কৃষি: ছেলে-মেয়েদের জন্য আধুনিক শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষির উন্নয়ন, বাজারজাতকরণ ও সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে বড় আচড়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
মফিকুল হাসান তৃপ্তি তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে এলাকাবাসীকে সতর্ক করে বলেন, “যে জামাতে ইসলামী ধর্মকে অপব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়, তাদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়া জরুরি।” তিনি মা-বোনদের সঠিকভাবে ইসলামী শিক্ষা অর্জন এবং নামাজ-রোজার প্রতি নিয়োজিত থাকার উৎসাহ দেন। একইসঙ্গে, জামায়াতে ইসলামীর ষড়যন্ত্র, বিভাজনমূলক কার্যক্রম ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে হেয় করার প্রচেষ্টা থেকে সজাগ থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের দায়িত্ববোধ, বেগম খালেদা জিয়ার সংযম ও সংগ্রাম এবং জিয়াউর রহমানের ন্যায়পরায়ণতা ও সততা—এই আদর্শগুলোই এলাকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
সভায় বেনাপোল পৌর বিএনপি সভাপতি নাজিমুদ্দিন, শার্শা থানা যুবদলের সদস্য সচিব ইমদাদুল হক ইমদাদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা স্থানীয় সমস্যা, জনগণের উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্পর্ক জোরদারের দিক তুলে ধরেন।
এছাড়াও, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান রিপন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ, এবং ছাত্রদলের নেতা শাহানুর রহমান শাওন, মোহাম্মদ বিপ্লব মন্ডল সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

