বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আরও ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন। মাত্র সাড়ে সাত ঘণ্টার ব্যবধানে গতকাল শনিবার (২২ নভেম্বর, ২০২৫) তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।:
| সময় | উৎপত্তিস্থল | রিখটার স্কেলে মাত্রা |
|—|—|—|
| শনিবার, সন্ধ্যা ৬:০৬:০৫ | ঢাকা (বাড্ডা) | ৩.৭ |
| শনিবার, সন্ধ্যা ৬:০৬:০৪ | নরসিংদী | ৪.৩ |
| শনিবার, সকালে | নরসিংদী (পলাশ) | ৩.৩ |
📈 বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: ‘ফোরশক’-এর কারণে ঝুঁকি বৃদ্ধি
আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একের পর এক যে ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো হচ্ছে, সেগুলোকে ‘ফোরশক’ বলা হয়। এই ফোরশকগুলো একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি করে।
* ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
* পূর্বাভাস: যদি পরবর্তী চার থেকে পাঁচ দিন এই ফোরশকগুলো অব্যাহত থাকে, তখন বড় ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে। সাধারণত ১৫ থেকে ২০টি ফোরশক হলে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হয়।
* বুয়েট বিশেষজ্ঞের মত (মেহেদী আহমেদ আনসারী): ৫.৭ এবং ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় ভূমিকম্প নয়, বরং এগুলো ফোরশক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা সব সময়ই ছিল এবং আমরা এখন বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে যদি ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে ভয়াবহ:
* হতাহতের আশঙ্কা: এক থেকে তিন লাখ মানুষ হতাহত হতে পারে।
* ভবন ধস: শহরের প্রায় ৩৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা আছে।
:
বিআইপি’র সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী, মধুপুর ফল্টে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকায় সাড়ে ৮ লাখের ওপর ভবন ধসে পড়বে এবং ২ লাখের বেশি প্রাণহানি ঘটবে। তিনি অবিলম্বে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উচ্চ ঝুঁকির ভবন চিহ্নিতকরণ ও রেট্রোফিটিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

