একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবস্থান নিয়ে প্রথমবারের মতো নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল জামায়াতে ইসলামী।

আরো পড়ুন

দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “একাত্তরে আমাদের দলের অবস্থান ভুল ছিল। আমরা সেই ভুলের জন্য জাতির কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা থাকলেও এবার দলটির শীর্ষ নেতার এমন স্বীকারোক্তি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান জানান, “রোজার আগেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।”
তবে তিনি নির্বাচনের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটের আহ্বান জানান, যার মধ্যে অনুপাতভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন বা পিআর) চালুর বিষয়টিও রয়েছে।

তার ভাষায়, “জনগণের মতামত যাচাই ছাড়া বড় কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। আমরা চাই, জনগণ যেন সরাসরি এসব সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারে।”

এক সময়ের বিতর্কিত জামায়াতে ইসলামী এবার সংখ্যালঘু অধিকার নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যদি ক্ষমতায় আসি, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার পাবে।”

তিনি একে দলের নীতিগত পরিবর্তনের প্রতীক বলে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি জামায়াতের জনমত পুনর্গঠনের কৌশলগত প্রয়াস হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।”

আরো পড়ুন

সর্বশেষ