নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ধর্মতলা এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে এক বড় ধরণের ট্রেন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত উদ্যোগের স্বীকৃতি স্বরূপ পুলিশ সুপার রওনক জাহান দুই পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করেছেন।
গত ৩০ এপ্রিল ২০২৫, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অন্তর্গত ধর্মতলা এলাকায় মোবাইল ডিউটিতে ছিলেন ট্রাফিক বিভাগের দুই সদস্য—টিএসআই কবিরুল ও কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম। সকাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে স্থানীয় কিছু লোক এসে তাদের জানান, নিকটবর্তী রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত লাইনম্যান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
দুই পুলিশ সদস্য তৎক্ষণাৎ সেখানে গিয়ে দেখেন, লাইনম্যান জ্বরাক্রান্ত ও কাঁপছেন—চরমভাবে দুর্বল। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তারা তাকে একটি রিকশায় করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
এই সময় হঠাৎ তারা জানতে পারেন, একটি যাত্রীবাহী ট্রেন আসছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইনম্যান অনুপস্থিত থাকায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কনস্টেবল শরিফুল নিজেই রেলগেটের বাঁশ নামিয়ে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ফলে ট্রেনটি নিরাপদে পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং দুই পুলিশ সদস্যের প্রশংসায় মুখর হয় নেটিজেনরা।
ঘটনাটি নজরে আসে পুলিশ সুপার রওনক জাহানের। আজ ১২ মে ২০২৫, সকাল ১১:৩০টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টিএসআই কবিরুল ও কনস্টেবল শরিফুলকে পুরস্কৃত করেন তিনি।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, “এমন দায়িত্বশীলতা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এই কাজের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। তারা একটি বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হয়েছে, এই পুরস্কার তাদের প্রাপ্য।”
জাগো /মেহেদী

