ফেসবুকে ফের ধর্মীয় উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন। গত বছরের মার্চে ঝুমন দাস আপনের ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টকে ঘিরে শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশের মামলায় দীর্ঘ কারাবরণ শেষে শর্তযুক্ত জামিনে মুক্ত হন ঝুমন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে ঝুমন দাসের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘মসজিদ মন্দির নিয়ে একটি পোস্ট’কে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই পোস্টের পর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নোয়াগাঁও গ্রামের বাড়ি থেকে ঝুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উস্কানিমূলক ওই স্ট্যাটাস ঝুমন দাস নিজেই দিয়েছে পুলিশের কাছে স্বীকার করলে তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজু করে গ্রেফতার দেখায়।
শাল্লা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে পোস্টের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে ঝুমন দাসকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি পোস্টটি তার করা বলে স্বীকার করেন। এরপরই তার বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
গত বছরের ১৬ মার্চ ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগ তুলে ১৭ মার্চ নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও পারিবারিক মন্দিরে হামলা চালানো হয়। তার আগে ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে আটক করা হয়। তাকে ১৭ মার্চ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সেদিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ২২ মার্চ শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ। এই মামলায় ২৩ মার্চ ঝুমনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৩০ মার্চ তাকে দুদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

