নিজস্ব প্রতিবেদক: জুনোটিক রোগে (প্রাণিদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত রোগ) মৃত ও কালিং পজিটিভ গবাদি পশুর খামারিদের মাঝে এ পর্যন্ত সোয়া কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।
খুলনা বিভাগে জুনোটিক রোগে মৃত ও কালিং পজিটিভ গবাদি পশুর খামারিদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণকালে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আজিজুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
বৃহস্পতিবার (৩১মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৫ জন খামারির মাঝে দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ্ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. সুখেন্দু শেখর গায়েন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. আজিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টোক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র অধ্যক্ষ ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী, জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আজিজ প্রধান ও জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেন। বক্তব্য দেন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আব্দুল খালেক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. সুখেন্দু শেখর গায়েন জুনোটিক রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সকল মৃত গবাদি পশুর নিরাপদ অপসারণ, উপজেলা পর্যায়ে খামারিসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আওতাভুক্তকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করার জন্যে দেশব্যাপি জুনোটিক রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আজিজুল ইসলাম জানান, ৭৩ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ্ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম দেশের ২৭টি জেলার ২০১টি উপজেলায় চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জুনোটিক রোগে মৃত/আক্রান্ত (কালিং সাপেক্ষে) গরু ও মহিষের খামারী পর্যায়ে ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ অপসারণে (পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা) ডিডিপিতে বরাদ্দের সংস্থান আছে। তিনি আরও জানান, গৃহপালিত প্রাণির ও প্রাণিজাত খাদ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরূপণের লক্ষ্যে ভেটেরিনারি পাবলিক হেল্থ ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ০৪ টি জুনোটিক রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম তরান্বিত করা এবং জুনোটিক রোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চলমান আছে। চার জুনোটিক রোগ (প্রাণিদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত রোগ) হচ্ছে, বোভাইন টিবি, ব্রুেসেলোসিস,অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্ক।
প্রকল্পে জুনোটিক রোগে মৃত/কালিং পজিটিভ ফলাফলপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক বড় গরু/মহিষের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮০ হাজার, ১ বছর বয়সী বাছুর গরুর জন্য ৪০ হাজার টাকা প্রদানের সংস্থান আছে। এই প্রকল্পের কার্যক্রম ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে যশোরের ঝিকরগাছার আনোয়ারা বেগম, শার্শার সিদ্দিক মিয়া ও শাহিদা খাতুন, সাতক্ষীরার কলারোয়ার মুকুল হোসেন, আশাশুনির বাবর আলী, দেবাশীষ কুমার, শ্যামনগরের শ্রীচরণ কুমার সরদার, সাজিদা খানম, তালা উপজেলার আক্তার গাজী, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মনোয়ার হোসেন, পারভেজ হোসেন ও আব্দুল খালেক, মেহেরপুর সদরের রাজ্জাক আলী, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শরিফুল ইসলাম ও দুলাল মোল্লাকে মোট ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আজিজুল ইসলাম আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১৬ লাখ টাকা, ২১-২২ অর্থবছরে ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। এবছর জুনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
জাগো/এমআই

