নিজস্ব প্রতিবেদক: তিন দিনে যশোরের ৩জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যাকারি তিনজন নারীর মধ্যে একজন কলেজ ছাত্রী।
সোমবার (২১ মার্চ) সকালে মায়ের ওপর অভিমান করে বন্যা সাহা (২১) নামে এক কলেজছাত্রী গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি মণিরামপুর বাজারের দোলখোলা মোড়ের ব্যবসায়ী গোপাল সাহার মেয়ে। বন্যা যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের দর্শনে অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
এর আগে (২০ মার্চ) চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়ারপাড়া গ্রামের প্রবাসী অবনিশ কুন্ডুর স্ত্রী সুমা রাণি (৩৫) গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সুমার ছেলে সজিব (১৫) বলেন, রবিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নিজেদের ঘরে প্রবেশ করতে গিয়ে তিনি দেখেন দরজা বন্ধ। তখন তার ডাক চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্যরা আসলে দরজা ভেঙে দেখতে পান তার মা ফ্যানের সাথে নিজের ওড়না দিয়ে ঝুলছেন। এরপর তারা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে গত শনিবার (১৯ মার্চ) রাতে উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামে সন্তানকে ভাত খাওয়ানো নিয়ে জা’য়ের সাথে কথা কাটাকাটিতে অভিমান করে রুমি খাতুন (২০) নামে এক সন্তানের জননী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। রুমি খাতুন ওই গ্রামের রাশেদুল গাজীর স্ত্রী। স্বজনদের বরাত দিয়ে খেদাপাড়া ক্যাম্পের টু আইসি সহকারী এএসআই সদরুল আলম বলেন, রুমি খাতুনের দুই বছরের একটি কন্যা রয়েছে। শনিবার রাতে তিনি মেয়েকে ভাত খাওয়াচ্ছিলেন। ভাত খেতে না চাওয়ায় তখন তিনি মেয়েকে মারধর করেন। এতে নিষেধ করতে আসলে জা জেরিনা খাতুনের সাথে রুমি খাতুনের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিমানে তিনি আত্মহত্যা করেন।
মণিরামপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরী বলেন, সোমবার সকালে মা রিংকু সাহার সাথে কথা কাটাকাটি হয় বন্যার। এরপর নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে শাড়ি জড়িয়ে গলায় ফাঁস দেন বন্যা। টের পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে গেলে চিকিৎসক বন্যাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মণিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়া কলেজ ছাত্রীর লাশ সৎকারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
জাগো/এমআই

