কেশবপুর পোষ্ট অফিস যেন মরণ ফাঁদ

আরো পড়ুন

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুর উপজেলা পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যে চলছে । ভবনের পিছনে পোষ্ট মাষ্টারের আবাসিক অংশ পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে অনেক আগেই। ছাদের ভীমে ফাটল ও পলেস্তরা খসে পড়া একটি কক্ষে পোষ্টমাষ্টার, পোষ্টাল অপারেটর ও পোস্টম্যানরা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। পোষ্টমাষ্টারের মাথার ওপর বৈদ্যুতিক পাখার হুক ভেঙে ও পলেস্তরা খসে পড়ায় ঝুলে আছে বিদ্যুতের তার।

জানা গেছে, ১৯৮০ সালে কেশবপুর পৌরশহরের ৪নং আলতাপোল ওয়ার্ডের উত্তর অংশে হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন উপজেলা পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের উদ্বোধন হয়। কেশবপুর পৌরসভা ও সদর ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের ইউনিয়নের মানুষ ওই পোস্ট অফিস থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। তাছাড়াও প্রতিদিন ২৪টি শাখা পোষ্ট অফিসের চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও অন্যান্য ডাকসেবার সমন্বয় করে থাকে ওই উপজেলা পোষ্ট অফিস। গত চার দশকে পোষ্ট অফিসের দুই পাশের সড়ক দু’টি পর্যায়ক্রমে উঁচু হওয়ায় ভবনটি চলে গেছে দুই থেকে আড়াই ফুট নীচে। ফলে বর্ষাকালে ভবনের চারপাশে পানি জমে স্যাতসেতে পরিবেশে আবাসিক অংশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। সামনের জরাজীণ একটি বড় কক্ষের মধ্যে পোস্টমাস্টার, পোষ্টাল অপারেটর ও পোস্টম্যানরা কার্য পরিচালনা করেন। কক্ষটির ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে ও ভীমে ফাটল ধরেছে বেশ আগে। ফলে বৈদ্যুতিক পাখা ৩টি খুলে রাখা হয়েছে। ষ্টাফরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই জরাজীর্ণ কক্ষে মানুষের ডাকসেবা দিয়ে আসছেন। যে কোনো মুহূর্তে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পাশে ছোট একটি কক্ষে পোষ্ট ই-সেন্টারে কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ চলে সারা বছর। কিন্তু ভবনের ভেতরে বা বাইরে প্রশিক্ষনার্থী ও সেবা প্রহত্যাশীদের মলমূত্র ত্যাগ করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

দায়িত্ব প্রাপ্ত পোষ্টাল অপারেটর পলাশ কুমার আইচ বলেন, গত বছর ছাদের পলেস্তরা ও পোষ্টমাষ্টারের মাথার ওপরের বৈদ্যুতিক ফ্যানটি হুকসহ খসে পড়ায় তিনি অল্পের জন্য জীবনে রক্ষা পান। যে কারণে অন্য ৩টি বৈদ্যুতিক ফ্যানও খুলে রাখা হয়েছে। পোস্টমাস্টার রবিউল হক রয়েল বলেন, বর্তমান এ পোষ্ট অফিসে জনবল সংকট আর ফাটল ধরা ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ভবনের ভেতরে ভালো কোন ওয়াশরুম নেই। পরিচিতজনরা ওয়াশ রুমের কথা বললে লজ্জায় পড়তে হয়। ষ্টাফরা নানান সংকটের মধ্যে প্রতিদিন আসে আর কাজ সেরে চলে যাই। তা ছাড়া বৃষ্টির পানি জমে স্যাতস্যেতে পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়। খুব সাবধানে ও কষ্ট করে এগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে।

যশোর বিভাগের ডেপুটী পোষ্টমাষ্টার জেনালের (ডিপিএমজি) মিরাজুল হক জানান, কেশবপুর উপজেলা পোষ্ট অফিসের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি নতুন ভবনের বরাদ্দ আসবে বলে আশা করা যায়।

উৎপল দে/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ