ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছায় অভিনব কায়দায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের চেষ্টা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তায় টাকা আত্মসাত করতে পারেনি প্রতারক চক্র।
সোমবার (১৪মার্চ) সন্ধ্যায় মোবাইলে কল আসে ঝিকরগাছা সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান শ্যামলীর কাছে। তিনি জানান, ০১৭৪৬-৬৮৩৩০৪ নাম্বার থেকে কল দিয়ে পরিচয় দেয় শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তা আশরাফ বলছেন। এরপর বলা হয় তার মোবাইলে উপবৃত্তির ১৫হাজার টাকা পাঠানো হবে এজন্য বিকাশ একাউন্টের পাসোয়ার্ড লাগবে। ওই শিক্ষার্থী পাসোয়ার্ড না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
একই নাম্বার থেকে কল যায় জান্নাতুল ফেরদৌসির মোবাইলে। এবার ভিন্ন নামে, ভিন্ন পরিচয়ে উপবৃত্তির টাকার কথা বলে পাসোয়ার্ড (ওটিপি) চাওয়া হয়। না দেয়াতে প্রচন্ড খারাপ ভাষায় গালাগাল করে ফোন কেটে দেয়া হয়।
প্রতারকের এই নাম্বার ব্যবহার করে সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা ও রোজিফা ইসলামের কাছে কল দেয়া হয়। প্রতারক চক্র অবিভাবকের সাথে কথা না বলে শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলতে চায়। এরপর একইভাবে বিকাশ একাউন্টের পাসোয়ার্ড হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
সাদিয়া বলেন, আমি আগে থেকেই জানতাম বিভিন্ন প্রতারক চক্র এভাবে কল দিয়ে পাসোয়ার্ড নিয়ে টাকা উঠিয়ে নেয়। এজন্য আমি কথা না বাড়িয়ে কল কেটে দিয়েছি।
রোজিফা বলেন, পাসোয়ার্ড না দেয়াতে খুব গালাগাল করেছে। পরে আবার প্রতারকের নাম্বারে কল দিলে রিসিভ করেনি।
ঝিকরগাছা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম জিল্লুর রশিদ জানান, একটা বড় প্রতারক চক্র উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম্বার যোগাড় করে প্রতারণা করে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এব্যাপারে সচেতন হতে হবে। ঝিকরগাছা থানার ওসি সুমন ভক্ত জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরণের প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রশাসন এই চক্র নির্মূল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
শাহ জামাল শিশির/এমআই

