চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বাড়ির পাশে নলকূপের গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছর বয়সী শিশু মিসবাহকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। উদ্ধারের পরপরই শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
:
উদ্ধার হওয়া শিশু মিসবাহ রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ করে প্রায় ৩০ ফুট গভীর একটি সরু নলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশুটি। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
:
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন:
> “গর্তটি সরু এবং গভীর হওয়ায় উদ্ধার কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে গর্তের চারপাশের মাটি সাবধানে সরিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হই।”
>
উদ্ধার অভিযানের সময় এলাকায় কয়েকশ মানুষ ভিড় করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং ও ভিডিও দেখে সারাদেশের মানুষ শিশুটির জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন। স্থানীয়রা প্রথমে গাছের ডাল ও টর্চলাইট ব্যবহার করে শিশুটিকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের পেশাদার হস্তক্ষেপেই শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে একই ধরনের দুর্ঘটনায় দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়েছিল। ৩২ ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযানের পর তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাউজানের এই ঘটনায় শিশুটি জীবিত উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। তবে যত্রতত্র অরক্ষিত নলকূপের গর্ত ফেলে রাখার বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন সচেতন মহল।

