নিজস্ব প্রতিবেদক : অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর দৃড় মনবোলে প্রতিবন্ধিতাকে পাশ কাটিয়ে স্বপ্ন জয়ের পথে হাঁটছেন তামান্না আক্তার নূরা। স্বপ্ন পূরণে অনেকটা পথ এগিয়ে গেছেন পা দিয়ে প্রশ্নের উত্তরপত্র লেখা তামান্না। প্রবল ইচ্ছা শক্তিতে পিইসি, জেএসসি, এসএসসির পরে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে বলিয়ান তামান্নার গন্তব্য এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নের।
বিবিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে বসতে চান বিসিএস পরীক্ষায়। স্বপ্ন দেখেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা ফোনে খোঁজ খবর নেওয়ার পরে অদম্য শিক্ষার্থী তামান্না নূরাকে ফোন দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনিও। ফোন দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তামান্নার স্বপ্নপুরনে যেকোন সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কণ্যা। পড়াশোনার দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি তামান্নার সাথে দেখা করার জন্য খুব শীঘ্রই যশোর আসবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তামান্নার বাবা রওশন আলী।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুরের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় তামান্না নূরা। তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গত রোববার প্রকাশিত ফলাফলে এসএসসির মতো এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। এর আগে তামান্না ২০১৯ সালে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া জোনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। একই ফল করেছিলেন পিইসি ও জেএসসিতেও। বাবা রওশন আলী ঝিকরগাছা উপজেলার ছোট পৌদাউলিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার (ননএমপিও) শিক্ষক। মা খাদিজা পারভীন গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তামান্না সবার বড়। ছোট বোন মুমতাহিনা রশ্মি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ভাই মুহিবুল্লা তাজ প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।
তামান্নাকে আলোকিত করার পেছনে মা খাদিজা পারভীনের ভূমিকা ছিলো সব চেয়ে বেশি। তামান্নার ফলাফলে যখন শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধবীদের মধ্যে আন্দন ও মিষ্টি মুখ চলছিলো তখন তার মা দূরারোগ্য ব্যাধিতে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলেন। তামান্নার মা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বর্তমানে নিজের বাড়িতে আছেন। মেয়ে তামান্নার ফলাফলের কথা জানতে চাইলে অশ্রু শিখতো চোখে বলেন, তামান্নার সাফল্যে কান্না ধরে রাখতে পারছি না। আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে বড় মেয়ে তামান্নার ফলাফল শুনেছি।
এছাড়াও হাসপাতালে শুয়েই শুনেছি; মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা ফোনে খোঁজ খবর নেওয়ার পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনিও ফোন করে খোজ খবর নিয়েছেন। তখন শুনে আমি আনন্দে কান্না করেছি। তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তামান্নার জন্ম। ওর জন্মের পর কষ্ট পেয়েছিলাম। তামান্নারে নিয়ে চিন্তায় রাতে ঠিকমতো ঘুম হতো না, বসে বসে কত কেঁদেছি। প্রতিবেশিরা বলতো, ‘ওরে নার্সদের কাছে বলে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেল। ওর মতো মেয়ে নিয়ে কি করবা। কোনো কাজে আসবে না। আজ সেই অবহেলিত মেয়ে আমার আর্শিবাদ।’
তামান্না আক্তার নূরা বলেন, একসময় গ্রামের মানুষজন আমাকে অলক্ষী অপয়া বলতো। তারা এখন আমাকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন। আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ফোন করে অভিন্দন জানান। আমার গন্তব্য এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নের। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ার।’
এদিকে, গত মঙ্গলবার তামান্নার এই ফলাফলে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসান তামান্নাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং মিষ্টি নিয়ে তার বাসায় যান। উপজেলা প্রশাসন সবসময় তার পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন। একই দিন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তামান্নাকে কৃতি সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এজাজ উদ্দীন টিপু তামান্নার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তামান্নাকে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে এককালীন শিক্ষাবৃত্তিও দেওয়া হয়েছে। মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভবনা তুলে ধরার জন্য যশোরের সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তামান্নার বাবা রওশন আলী।

