ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের সব বয়সীদের করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ‘ফ্রি’ দিচ্ছে সরকার। এ খাতে কারো কাছ থেকে একটি টাকা নেয়ার নির্দেশও নেয় স্বাস্থ্য বিভাগের।
কিন্তু যশোর ও ঝিনাইদহ জেলার কিছু কিছু মাধ্যমিক ও দাখিল শিক্ষার্থীদের টিকা পেতে প্রত্যেকের কাছ থেকে যাওয়াত খরচ ও খাওয়া বাবদ ২০ থেকে ৬০ টাকা নিয়ে পকেট কাটছে বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তপক্ষের উপর। আর টিকার কার্ড বাবদ ফটোকপি খাতে ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিকা দেয়ার জন্য ৩০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ডোজের সময়ে দিতে আরো ৩০ টাকা করে দিতে বলেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠান থেকে ২৯৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা কোনো টিকা বাবদ টাকা নেয়নি। ঝিকরগাছা মাধ্যমিক অফিস থেকে আমাদের ইমেইল করা হয়েছে বাউশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য উপজেলার স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তোলার জন্য। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেই চিকিৎসার জন্য টাকা তোলা হয়েছে মাত্র।
অন্যদিকে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মডেল দাখিল মাদরাসা এবং বানিয়ারগাতি মহিলা মডেল দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে তোলা হয়েছে।
বানিয়ারগাতি মহিলা মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা হারুনার রশিদ বলেন, আমার বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থী। আমরা কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনো অর্থ নিচ্ছি না টিকা বাবদ।
এদিকে মঙ্গলবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার হাসানহাটী বড় ধোপাদী এবাদত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৬০ টাকা করে। টিকা প্রদানকেন্দ্রে যাতায়াতের নামে এ টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যশোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম গোলাম আযম বলেন, সরকারের নির্দেশ টিকা প্রদান বা যাতায়াত খরচ বাবদ কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। অভিভাবক তার সন্তানকে টিকা কেন্দ্র নিয়ে টিকা দিয়ে নিয়ে যাবেন। এখানে কোন প্রতিষ্ঠান টাকা গ্রহণ করতে পারবে না।
যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোনো টাকা নেয়া হচ্ছে না। ফাইজারের প্রথম ডোজ করোনা টিকা সরবরাহ করছি ও স্বাস্থ্য কর্মী দিয়ে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। টাকা নেয়ার বিষয়ে ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলতে পারবেন।

