নিজস্ব প্রতিবেদক: পুনরায় ভোট গণনার আবেদন করেছেন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের (বাগডাঙ্গা-নলডাঙ্গা) টিউবওয়েল প্রতীকের মেম্বর প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। এই বিষয়ে তিনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সিরাজুল ইসলামের দাবি, ফলাফলে কারচুপি করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার জানান, ওই প্রার্থীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে মেম্বর পদে অংশগ্রহণ করেন। এ ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র দুটি হলো বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিএনডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভোট গণনা শেষ হলেও প্রিজাইডিং অফিসার তার ফলাফল ঘোষণা করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি (সিরাজুল ইসলাম) কেন্দ্রে তার ফলাফল জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার বলেন আপনি জয়ী হয়েছেন। এখন কেন্দ্রের বাইরে যান। একইকথা তার এজেন্টকে জানানো হয়। বিজয়ী খবর জানতে পেরে কর্মী সমর্থকেরা আনন্দ মিছিল বের করেন। এর কিছু সময় পর জানতে পারেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে গিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারকে পাওয়া যায়নি। কেন্দ্র থেকে তাকে ফলাফলের কপিও দেয়া হয়নি। সিরাজুল ইসলাম জানান, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও ফলাফলে কারচুপির মাধ্যমে তাকে হারানো হয়েছে। এর আগের ভোটেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। সুনামের সাথে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। যে কারণে ওয়ার্ডে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এবারের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে পাস করবেন বলে আশা ছিলো। কিন্তু ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে।
পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে ৬ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আশরাফুল আলম জানান, মেম্বর প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ফলাফলে অনিয়ম দাবি করে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ভোট গণনার পর ফলাফলের তালিকা তৈরি করে তিনি ব্যালটের বস্তা সিলগালা করেন। ওই বস্তা খোলার অনুমতি তার নেই। তিনি আরো জানান, মেম্বর প্রার্থীকে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আদালতের মাধ্যমেই ভোট পুনরায় গণনা করতে হবে।
জাগোবাংলাদেশ/এমআই

