মুক্তিযোদ্ধা ডা. তবিবর রহমান বুধবার যশোর শহরের বকুলতলাস্থ বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুর রশিদ তাকে ২৮ শয্যা বিশিষ্ট করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তির জন্য লেখেন। ওয়ার্ডবয় রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিটের তিনতলায় নিতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। লিফট বন্ধ থাকায় স্থানীয় ৩/৪ জনের সহযোগিতা নিয়ে হুইলচেয়ারে অতিকষ্টে ৩য় তলা মুক্তিযোদ্ধা কেবিনে নিয়ে যান। শুধু ডা. তবিবর রহমান নন; হালিমা বেগম, রেজাউল ইসলামসহ সকল রোগীকে গত এক সপ্তাহ থেকে সিঁড়ি দিয়ে হাঁটিয়ে বা হুইলচেয়ারে করে করোনারি কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ যাবৎ করোনারি কেয়ার ইউনিট ভবনের লিফট নষ্ট। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হৃদরোগে আক্রান্ত চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকরা। অথচ নতুন লিফট ৭মাস আগে হাসপাতালে এলেও লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রমতে, সময়ের ব্যবধানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে রোগী যেমন বেড়েছে; তেমনি সকল বিভাগের জনবল ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নয়ন করেছে সরকার। এতে বেড়েছে সেবার মানও। তাই যশোরসহ আশপাশের মানুষ উন্নত সেবা নিতে ছুটে আসেন এ হাসপাতালে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান মতে, এ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ৮৫/৯০ জন রোগী ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের উপরে নিচে আনা নেয়ার জন্য রয়েছে লিফটের ব্যবস্থা। কিন্তু ৭দিন ধরে লিফটটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের কর্মচারী ও রোগীর স্বজনরা ‘কোলে’ করে, হুইলচেয়ারে, ট্রলিতে ও হাঁটিয়ে হৃদরোগীদের সিঁড়ি দিয়ে তিন তলায় উঠানো-নামানো করছে। এতে করে রোগীসহ সবাইকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের টেকনিশিয়ান আব্দুস সালাম ও আরিফুজ্জামন জানান, লিফটটি দীর্ঘদিনের। পুরানো হওয়ায় বর্তমানে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে নতুন লিফট আসলেও অজ্ঞাত কারণে তা লাগানো হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ফজলুল হক খালিদ বলেন, লিফটি চালু না থাকায় সব থেকে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বর্তমানে তাদেরকে সিঁড়ি দিয়ে হাঁটিয়ে তিন তলায় নেয়া হচ্ছে। এতে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, তিনতলার উপরে আরেক তলার সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এতে নতুন লিফট লাগানো সম্ভব হচ্ছে না বলে গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে। তবে রোগীর কথা বিবেচনা করে দ্রুত যাতে লিফট লাগানো হয় সে বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে তিনি যোগাযোগ করবেন।
যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটের লিফট বিকল হৃদরোগীরা তিন তলায় উঠেন হেঁটে

