নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর অফিসে হামলা, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় নির্বাচনে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে এই হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে। ওই ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপনসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০/৬০ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন যশোর আদালতে এই মামলা করেছেন। বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাঘারপাড়ার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, নজরুল ইসলাম, ইউনুচ আলী শেখ, মুজাহার আলী, রিপন হোসেন, সোহেল শেখ, কাদের শেখ, পলাশ হোসেন, মোস্তফা শেখ, টোকন শেখ, টিপু শেখ, আয়ুব হোসেন, আজগর আলী, বাবলুর রহমান, আলম খা, ছবুর হোসেন, কামাল হোসেন, কামরুল ইসলাম, সবুজসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন।
বাদী মামলায় বলেছেন, গত ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে রায়পুরে নৌকা প্রতীকে বিল্লাল হোসেন দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত হন। পাশাপাশি মঞ্জুর রশিদ স্বপন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রায়পুর বাজারে বাড়ির নিচে বিল্লাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নির্বাচনের দিন তিনি সেখানে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যায় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগমুহূর্তে স্বপন গলায় ফুল নিয়ে বিজয় মিছিল বের করেন। এক পর্যায়ে মিছিল সহকারে আসামিরা পাইপগান, হকিস্টিক, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে রায়পুর বাজারে নৌকার নির্বাচনী অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এসময় নৌকা বিরোধী শ্লোগান নিয়ে বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করতে থাকে।
এক পর্যায় তার বিল্লালের উপর হকিস্টিক দিয়ে হামলা করতে উদ্যত হয়। পরে বিল্লাল তিনতলার নিজের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এসময় আসামিরা বিল্লালের অফিসের পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ভাংচুর করে। এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টেবিলের ড্রয়ার খুলে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
রায়পুর ইউনিয়ন : নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা

