নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ষড়যন্ত্র করে ১২ ভোটে পরাজিত দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী তালা প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর সিদ্দিকিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আরেক প্রার্থী সোহরাব হোসেন।
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার অসীম কুমার পালের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনে বুধবার সন্ধ্যায় মণিরামপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সোহরাব হোসেন। মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সুবলকাটি ওয়ার্ড থেকে সোহরাব হোসেন মোরগ প্রতীক নিয়ে ইউপি সদস্য পদে (মেম্বর) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সুবলকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলার কপালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার পাল।
লিখিত বক্তব্যে সোহরাব হোসেন দাবি করেন, এ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়। অভিযোগে বলা হয় ভোট গ্রহণ শেষে গণনার প্রথম দফায় দু’প্রার্থীর ভোট হয় সমান সমান। সেখানে দায়িত্বে থাকা মোরগ প্রতীকের এজেন্ট আছর আলীর দাবির মুখে দ্বিতীয় দফা গণনাতে সোহরাব হোসেন ১২ ভোটে এগিয়ে থাকেন। এরপর তালা প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর হোসেনের এজেন্টের দাবির মুখে তৃতীয় দফা গণনা করে উল্টো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলমগীরকে ১২ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ সময় প্রিজাইডিং অফিসার অসিম কুমার পাল তার ১০/১২টি বৈধ ভোট বাতিল দেখিয়ে আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন বলে তার অভিযোগ। এ ঘটনায় প্রার্থী সোহরাব হোসেনের সমার্থকরা ভোট কেন্দ্র নিয়োজিত সকলকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এক পর্যায়ে পুলিশ এবং বহিরাগতদের সহযোগিতায় ভোট কেন্দ্র থেকে তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করেন তারা। এক প্রশ্নের জবাবে সোহরাব হোসেন জানান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সোহরাব হোসেনের সাথে উপস্থিত ছিলেন তার এজেন্ট আসর আলীসহ গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গগণ।
এ ব্যাপারে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী প্রিজাইডিং অফিসার অসীম কুমার পাল এসব অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, ভোট গ্রহণ যেমন সুষ্ঠ হয়েছে, গণনার ক্ষেত্রেও কোন রকম ভুলভ্রান্তি হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর মণিরামপুর উপজেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মণিরামপুরে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

