নিজস্ব প্রতিবেদক॥ করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় যশোরের মণিরামপুরে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৩৩ জন ছাত্রী বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে। বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীরাও বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে। এর বাইরে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪১১ জন শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়া এবং বাল্য বিয়ের ঘটনায় সর্বমহলে চিন্তার ভাজ ফেলে দিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানাগেছে, করোনা মহামারি ধারণ করায় দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি না হওয়ার কারণ খুজতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই আলোকে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসের নির্দেশনায় মাধ্যমিক স্তরের সকল প্রতিষ্ঠান বাল্যবিয়ে ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর তালিকা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠান।
এ হিসেবে উপজেলার ১১৮টি মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৩ হাজার ২০৮ জন ছাত্রীর মধ্যে ৪৯৩ জন বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে এবং ৫০৮ জন ছাত্রী ঝরে পড়েছে। অপরদিকে ৬৯টি মাধ্যমিক স্তরের মাদ্রাসার ৬ হাজার ৩২৪ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৪০ জন বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে এবং ২৯৫ জন ঝরে পড়েছে।
সূত্রমতে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৪২২ জন ছাত্রের মধ্যে বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে না অর্থাৎ ঝরে পড়েছে ৪৩২ জন এবং ১৩ হাজার ২০৮ জন ছাত্রীর মধ্যে ঝরে পড়েছে ৫০৮ জন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী বিয়ে হয়েছে ৩.৭৩% এবং ছাত্রী ঝরে পড়েছে ৩.৮৪%। একই স্তরে ছাত্র ঝরে পড়েছে ৩.৪৭%। মাধ্যমিক স্তরের মাদ্রাসার ৩৬০০ ছাত্রের মধ্যে ঝরে পড়েছে ১৮৬ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ হাজার ৩২৪ জন ছাত্রীর মধ্যে ঝরে পড়েছে ২৯৫ জন। এ স্তরে ছাত্রী বিয়ে হয়েছে ৭.৭৯% এবং ছাত্রী ঝরে পড়েছে ৪.৬৬%।
করেনাকালীন বিদ্যালয় বন্ধের সময় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর বিয়ে ও ঝরে পড়া নিয়ে সর্বমহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ হিসাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করা হয়েছে।
বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করা এনজিও রাইটস্ যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিণয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। করোনার সময় থেকে এটি শুরু হলেও তার লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে আনতে জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।
করোনাকালে মণিরামপুরে ৭৩৩ ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার

