যশোরে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন ও রাজপথ অবরোধ: ১০ম গ্রেডে বিএসসি প্রবেশের প্রতিবাদ

আরো পড়ুন

সারাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস। সরকারি চাকরিতে ১০ম গ্রেডের পদের বিএসসি (BSc) ডিগ্রিধারীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদে পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমেছেন শত শত শিক্ষার্থী। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে জড়ো হতে থাকেন। এর ফলে ইনস্টিটিউটের সকল একাডেমিক কার্যক্রম ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দেন।

সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কুষ্টিয়া-যশোর মহাসড়ক ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো প্রদক্ষিণ করে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষায় চার বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পর ১০ম গ্রেড সবসময়ই তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। তাদের আপত্তির মূল পয়েন্টগুলো হলো:
* চরম বৈষম্য: নতুন নীতিমালায় সাধারণ বিএসসি ডিগ্রিধারীদের এই গ্রেডে নিয়োগের সুযোগ দেওয়াকে তারা চরম বৈষম্যমূলক হিসেবে দেখছেন।
* কর্মক্ষেত্র সংকোচন: এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত কর্মক্ষেত্র ছোট হয়ে আসবে এবং বেকারত্ব বাড়বে।
* কারিগরি শিক্ষার অবমূল্যায়ন: শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ের কাজের জন্য তাদের বিশেষভাবে দক্ষ করা হলেও এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।

সমাবেশে ছাত্রনেতারা বলেন, “আমরা দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা আমাদের বেশি হওয়া সত্ত্বেও কেন আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে? ১০ম গ্রেড ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকার, সেখানে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া চলবে না।”
বক্তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পূর্বের গেজেট বহাল রাখার দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তারা।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কারণে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ