সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম প্রসিকিউশনের ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে তার সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত কৌঁসুলি তাকে জেরা করছেন, যা আগামীকাল, অর্থাৎ রোববারও চলবে।
নাহিদ ইসলামের জেরা শেষ হওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার সাক্ষ্য দেবেন। এরপর মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে প্রবেশ করবে। সব প্রক্রিয়া শেষে বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করবেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অগ্রগতি
কোটা পুনর্বহালের রায়ের পর শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যৌথ হামলায় বহু মানুষ নিহত ও ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। এই সহিংসতার জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন।
এরপর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। জুলাইয়ের গণআন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের জন্য নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করেন। এসব মামলার মধ্যে দুটিতে প্রাথমিক অপরাধের উপাদান পাওয়ায় ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১২ মে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং ৩ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৪৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাদের মধ্যে আহত ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী এবং রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনও রয়েছেন। সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

