আ’লীগ সরকারের পতনের বাস্তবতা মেনে নিতে ব্যর্থ ভারত :

আরো পড়ুন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশjনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনের এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণ-অভ্যুত্থান, এবং ক্ষমতাসীন সরকারের পতন পরবর্তী অবস্থার ওপর একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে:

1. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভারতের ভূমিকা:
টিআইবি উল্লেখ করেছে যে ভারতের সরকার, রাজনীতিবিদ, এবং গণমাধ্যম আওয়ামী লীগের পতন মেনে নিতে পারেনি। প্রতিবেশী দেশের এমন ভূমিকা এবং সীমান্ত হত্যার অব্যাহত ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কিত উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

2. অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ও জাতীয় দিবস পালনে সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্ত সমালোচিত হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম চলমান থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

3. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিপীড়ন:
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের সমালোচকদের দমন করতে গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ, মামলা এবং প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এসব কার্যক্রম গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে।

4. বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন:

জুলাই-আগস্ট মাসের গণহত্যার বিচার শুরু হলেও এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও মামলা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

রিমান্ড এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় আইনি বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

বিচারপতি, আইনজীবী ও আসামিদের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার একটি জটিল ও সমালোচনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেছে। এটি সরকারের জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের গুরুত্বকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে টিআইবির এমন পর্যবেক্ষণ নিয়েও বিভিন্ন পক্ষ থেকে মতভেদ থাকতে পারে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় প্রভাব ফেলবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ