যশোরে শীতের দাপট

আরো পড়ুন

মধ্য পৌষে মৌসুমের সবচেয়ে দাপুটে শীত দেখলো যশোরবাসী। গত কয়েক দিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে হয়েছে ঘড়িতে । সরাদিন ঘন কুয়াশার আড়ালে ছিল সূর্য। উত্তরী হাওয়ায় প্রাণিকূল কেঁপেছে থরথর। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে পড়তে থাকে কুয়াশা বৃষ্টি।
যশোরে গত তিন-চারদিন প্রচন্ড কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া বইছে। দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তাপমাত্রা ছিল কম। তবে শনিবার দুপুর পযন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। দুর্ঘটনার এড়াতে দিনেও স্থানীয়সহ দূরপাল্লার যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে ।
যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের সার্জন জহুরুল জানান, শনিবার সকাল পযন্ত যশোরের তাপমাত্রা ছিল ৮.৬ সেলসিয়াস। তবে বেলা বাড়তে বাড়তে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ বা ১৯ সেলসিয়াস হতে পারে। সকাল থেকে মৃদু মৃদু বাতাস বইছে।
এদিকে, শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নওগাঁ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
যশোরের হঠাৎ হাড়কাঁপানো এ তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেলা বাড়লেও ঘর থেকে বের হতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। তীব্র শীতে কাহিল হয়ে পড়ছে জনজীবন।
শহরের খড়কি এলাকার রিকশাচালক নূর হোসেন বলেন, গত তিন-চার দিন যে পরিমাণ শীত পড়ছে; তাতে বাইরে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রিকশা না চালালে ভাত জুটবে না; তাই বাধ্য হয়ে পথে নামতে হয়েছে।
শহরের বেজপাড়া এলাকার আবু সাঈদ বলেন, শৈতপ্রবাহের কারণে সকালে সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রেও ভাবতে হচ্ছে। তীব্র শীতে ঠান্ডা লেগে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত না হয়।
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাঁচি-কাশিসহ কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অপরদিকে শীতের কারণে সারাদিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে ঘুরতে দেখা যায়। শীতকালীন রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে গরম পানি পান করাসহ গরম কাপড় ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আবদুস সামাদ বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপ থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ