শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার দুই বছরের মাথায় লোকসানে পড়েছে শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ’২২) কোম্পানিটির ৪৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ২৮১ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।
রবিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে ১৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ২৮১ কোটি টাকা।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, কাঁচামাল ও জাহাজীকরণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং টাকা অবমূল্যায়নের কারণে কোম্পানিটির ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমায় কোম্পানির ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৯ টাকা ২৮ পয়সায়। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১৮ টাকা ৬ পয়সায়।
২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনে আসা ওয়ালটন হাই-টেক ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ অর্থবছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর বাইরে উদ্যোক্তা পরিচালকদের জন্য ১৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কোম্পানিটি।
সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪০ টাকা ১৬ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৪ টাকা ২১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির পুনর্মূল্যায়িত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৩৪ টাকা ৬৮ পয়সায়, যা আগের অর্থবছর শেষে ছিল ৩১১ টাকা ৫৯ পয়সায়। আর পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩১ টাকা ৩৪ পয়সায়। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ২০৮ টাকা ১৬ পয়সা।
শেয়ারবাজারে আসার বছরে, অর্থাৎ ২০২০ সালে কোম্পানিটি ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর পরের বছর ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১ অর্থবছরের জন্য উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১৭০ শতাংশ নগদ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৪ টাকা ২১ পয়সা। যেখানে আগের অর্থবছরে ইপিএস ছিল ২৪ টাকা ২১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩১১ টাকা ৫৯ পয়সায়। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ২৬৪ টাকা ৪৮ পয়সা।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩০২ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিপরীতে রিজার্ভ রয়েছে ৯ হাজার ৭৪২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩০ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩। এর মধ্যে ৯৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে; দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে; দশমিক ১০ শতাংশ রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।
শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটির শেয়ার ১ হাজার ৪৭ টাকা ৭০ পয়সা ফ্লোর প্রাইসে যৎসামান্য লেনদেন হচ্ছে।

