যশোর প্রতিনিধি: এটা কোনো পাহাড়ের নাম নয়। যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের সৌমিক আহমেদ সাগরের পালিত এক ষাঁড়। যশোর জেলার মধ্যে সব চেয়ে বড় কোরবানির পশু এটি। তাইতো আদর করে ‘কালা পাহাড়’ নাম দিয়েছেন খামারী।
সৌমিক আহমেদ সাগর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রভাষক। শখের বসে তিনি এই গরু পালন করেছেন। আর এই কালা পাহাড়কে দেখতে প্রতি দিন জেলা ও জেলার বাহিরে লোকজন ভিড় করে তার বাড়িতে।
তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২২০০ কেজি (৫৫ মণ) ওজনের ‘কালা পাহাড়’কে। ৩ বছর ধরে এই গরুকে লালনপালন করছি। প্রতি দিন খাদ্য তালিকায় তার রয়েছে ১৬-১৭ কেজি পালিশ (পালিশ হলো, ধান, চাল, গম, ছোলা, কেওড়া, খেসারি, মসুর ডাল, সয়াবিন, সরিষা, তুলাবীজ, নারিকেলের খৈল, কালিজিরাসহ ১৪ রকম খাবার), বিচলি ও কাঁচা ঘাস।
সৌমিক আহমেদ সাগর আরো বলেন, জেলার নওয়াপাড়া থেকে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটা ক্রয় করি। ৩ বছর যাবত নিজের সন্তানের মতো করে লালন পালন করেছি। কোরবানি ঈদে গরুটি দাম নির্ধারণ করেছি ৩০ লাখ টাকা। তবে এখন অবদি কালা পাহাড়ে দাম উঠেছে ২০ লাখ টাকা।
যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে গত ১৪ মে পশু প্রদর্শণীর আয়োজনে করে। সেই অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের অন্য প্রাণিদেরর পিছনে ফেলে কালা পাহাড় প্রথম স্থান অর্জন করে। জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে একটি ক্রেস্ট ও সনদ দেয়।
যশোর শহর থেকে গুরু দেখতে আসেন শিমুল, বাপ্পি, জাফর। তারা বলেন, এতো বড় গরু আগে কখন দেখিনি। অনেক শান্ত এই গুরুটি। তবে এমন উদ্যেক্তা হলে বেকার যুবকদের আর চাকরি নামক সোনার হরিণে পিছনে ছুটতে হবে না।
যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, নিঃসন্দেহে সৌমিক আহমেদ সাগরের পালিত ‘কালা পাহাড়’ যশোর জেলা মধ্যে সব চেয়ে বড় গরু। তবে খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম পাচটা গরুর মধ্যে কালা পাহাড় থাকবে। ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি খাবার তালিকায় আছে ধান, চাল, গম, ছোলা, কেওড়া, খেসারি, মসুর ডাল, সয়াবিন, সরিষা, তুলাবীজ, নারিকেলের খৈল, কালিজিরাসহ ১৪ রকম খাবার মিশ্রিত পালিশ।

