মুনতাসির আল ইমরান: বিলে নয় বিঘা জমি আছে সাইদুরের পরিবারের। কিন্তু বছরভর জলাবদ্ধতার জন্য তিন ফসলি জমি থেকে কোন কোন বার এক ফসলও মেলে না। তাই জীবন জীবিকার তাগিদে বিকল্প ভাবতে থাকেন সাইদুর। চাষবাদে আয় না থাকায় পাওয়ার টিলারটি বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু দাম ভাল মিলছিল না। এরমধ্যে হঠাৎ মাথায় ভাবনা জাগে পাওয়ার টিলারে চায়ের দোকান করার।
আর এই মনের দুঃখে পাওয়ার টিলারে চায়ের দোকান করেছেন যশোর সদরের উত্তর সাড়াপোলের সাইদুর রহমান। হরিণার বিলের জলাবদ্ধতায় বার বার ফসল মার খেয়ে হতোদ্যম এই যুবকের এমন উদ্যোগ। ক্ষোভে কৃষি কাজই ছেড়ে দিয়েছেন। রোজ পাওয়ার টিলারে চড়ে সকালে চায়ের দোকানটি বের হয়। খদ্দের সামলে রাতে বাড়ি ফিরে আসে সাইদুর।
সাইদুর রহমান বলেন, যশোর শহরসহ দূরদুরান্ত থেকে অনেকে সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নে হরিনার বিল দেখতে আসেন। কিন্তু বিলের আশপাশে কোন দোকানপাট নেই। যেখানে বসে একটু জিরিয়ে নেওয়া যায়। চা, বিস্কুট ও পানি কিনতে পারেন। আর এটি মনে আসার পর চায়ের দোকান করার চিন্তুা আসে মাথায়। কিন্তু বিলের ফাঁকা জায়গায় দোকান করাটা অনেক ঝামেলারও। রাতে দোকানের মালামাল খোয়া যেতে পারে। তাই এসব সাতপাঁচ ভেবে পাওয়ার টিলারে ভ্রাম্যমান চায়ের দোকান করেন।
দেখা যায়, পাওয়ার টিলারের উপর টিনের পুরু পাত ব্যবহার করে বানানো হয়েছে চায়ের দোকানটি। উপরের চালাটিও টিনের। দোকানের কিছু অংশে কাঁচ দিয়ে ঘেরা। ভেতরে সাজানো বিস্কুট, চানাচুর, কোল্ডড্রিংকস, মিনারেল ওয়াটারসসহ সাজিয়ে রাখা অন্যান্য পণ দেখা যায়। সম্প্রতি বিলের পাড়ে একটি চালাও নির্মাণ করেছেন সাইদুর। যাতে দোকান খোলার পর খদ্দের যেন রোদ-বৃষ্টির সময় সেখানে বসতে পারেন।
স্থানীয়রা জানান, পাওয়ার টিলারের এই দোকানটি হওয়ায় তাদের খুব উপকার হয়েছে। মাঠে কাজ করতে এসে চায়ের তেষ্টা ও ক্ষুধা লাগলে নিবারণের কোন উপায় ছিল না। কিন্তু সাইদুরের পাওয়ার টিলারের এই দোকানটি হওয়ায় সেটি পূরণ হয়েছে। কাজ করতে করতে ক্ষুধা তেষ্টা পেলে সেখান থেকে চা-নাস্তা করে নেওয়া যায়, বলছিলেন কৃষক শাহীন গাজি। তার সাথে সুর মেলান হরিণার বিলের অন্য চাষিরাও।
সাইদুর রহমান জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বিলের জমির চাষবাদ বারবার মার খেয়ে অন্য সব কৃষকের মত তিনিও ক্ষতিগ্রস্থ। এমনও হয়েছে তিন ফসলি জমি থেকে একবারও ফলন পাননি। এতে চরম আর্থিক দুর্দশায় পড়েন। ফলে একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনিসহ ৬ সদস্যের পরিবার চালাতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা হয়। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে চাষাবাদ ছেড়ে অন্য উপায় ভাবতে থাকেন। এরপর মনের দুঃখে চায়ের দোকান করেন; দীর্ঘ দিনের চাষ কাজের সঙ্গী পাওয়ার টিলারের উপর।
তিনি জানান, জীবীকার তাগিদে সকালে হলে পাওয়ার টিলারের চায়ের দোকান নিয়ে বের হন। রাতে বেচাবিক্রি সেরে পাওয়ার টিলার চালিয়ে দোকান নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এভাবেই তার সংসারটা চলে যাচ্ছে।
জাগো/এমআই

