শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথের জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটে ঈদের আগেই নির্মাণ করা হবে আরেকটি নতুন ঘাট। ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
সোমবার (১৮ এপ্রিল) সকালে শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট ফেরিঘাটে এসে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় লঞ্চ বন্ধ থাকলেও যাত্রীরা যাতে ফেরিতে পদ্মা পার হতে পারেন তাই ফেরিঘাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঈদের সময় একযোগে শিমুলিয়া-মাঝিরঘাট এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার দুই রুটেই দিনরাত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বাংলাবাজার ঘাটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে মাঝিরঘাট ফেরি ঘাটটি ব্যবহার করতে সেটির আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান বলেন, ঈদের আগেই ২৮ এপ্রিল নতুন ঘাট দিয়ে যান পারাপার শুরু হবে। নতুন ঘাট নির্মাণ ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে মাঝির ঘাট লঞ্চঘাট সরিয়ে নেয়া হবে।
এর আগে ঘাট নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ ছাড়া মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে রাতে ফেরি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার কারণ বিবেচনা করে ওই নৌপথে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিনটি ফেরি চলাচল করছে। বিকল্প ঘাট হিসেবে জাজিরার সাত্তার মাদবর, মঙ্গল মাঝির ঘাটে গত বছর ডিসেম্বরে ফেরি চলাচল শুরু হয়।
বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথ দিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন ফেরি পার হয়। গত বছরের ২০ জুলাই পদ্মা সেতুর একটি পিলারের সঙ্গে এই নৌপথের রো রো ফেরির ধাক্কা লাগে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরিগুলো পদ্মা সেতুর সঙ্গে কয়েক দফা ধাক্কা লাগে। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৮ আগস্ট থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকে শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েন। এরপর নদীর স্রোত কমে গেলে ওই নৌপথে দিনের বেলা স্বল্পপরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হয়।
জরুরি সেবা দিতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকায় গত বছরের ২৫ আগস্ট নতুন একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ। নাব্য সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ওই পথে ফেরি চালু করা যায়নি। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে নৌপথ দুটিতে দিনে তিনটি এ টাইপের ফেরি, দুটি ডাম্প ফেরি ও একটি ছোট ফেরি চলাচল করছে। বিকাল ৫টার পর বাংলাবাজার ঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটে তিনটি ফেরি চলাচল করে। দিন-রাতে মিলে নৌপথ দুটিতে ১০০০ থেকে ১২০০ যান পারাপার করছে।
জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির লঞ্চঘাটটি ৪০০ মিটার পূর্ব দিকে সরিয়ে সেই স্থানে নতুন একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করা হবে। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক আজ সেখানে পরিদর্শনে আসেন। ঘাটের ইজারাদার, পরিবহন ব্যবসায়ী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিনি সভা করেন। সভা শেষে তিনি এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক বলেন, নতুন ঘাট নির্মাণের জন্য মাঝিরঘাট লঞ্চঘাটটি বর্তমান অবস্থান থেকে ২০০ মিটার পূর্ব দিকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের হাতে সময় খুবই কম। আগামী ২৮ তারিখ থেকে নতুন ঘাট প্রস্তুত করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুএক দিনের মধ্যেই জাজিরায় নতুন ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

