চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা কার্পাসডাঙ্গায় ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ভৈরব নদী খননের সময় বের হয়ে এলো প্রায় দেড় থেকে দুই শত বছরের পুরনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও মানুষের হাড়।
বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) মাঝ রাতে ভৈরব নদী খননের সময় এসব পাওয়া যায়। জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার খবর শুনে কার্পাসডাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় ভোর থেকেই কৌতহলী মানুষ দেখতে ভিড় করছে ঘটনাস্থলে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাছলিমা আক্তার বিষয়টি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, দামুড়হুদার সুবলপুরে গত বছর ১৯ ডিসেম্বরে ভৈরব নদ খননের কাজের উদ্বোধন হয়। এরপর ভৈরব নদ খননের এক পর্যায়ে কার্পাসডাঙ্গা ও বাঘাডাঙ্গার নীল কুঠিরের নিচে মাটি কাটা ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি খননের সময় ড্রেজার মেশিনের চালক গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মাঝ রাতে ব্রিটিশদের পণ্যবাহী শত বছরের ওপরের পুরানো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও মানুষের হাড়ের সন্ধান পায়। বিষয়টি ভৈরব নদ খননের ঠিকাদারকে জানালে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়।
শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভৈরব তীরে লোকজন দূর-দূরান্ত থেকে জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও মানুষের কিছু হাড় দেখতে ভিড় করছেন। দেখতে আসা লোকজন মোবাইলে ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে নিচ্ছেন।
নদী খননের ঠিকাদার বিশ্বজিৎ জানান, রাতে নদীর মাটি খনন করার সময় এগুলো পাওয়া যাওয়া গেছে। কৌতুহলী মানুষ দেখতে ভিড় করছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে ড্রেজার চালক নাইম বলেন, ‘গত রাতে আমি মাটি খনন করছিলাম। হঠাৎ মাটি খননের মেশিনের প্লেটে লোহা বাঁধে। পরে আরও মাটি খনন করতে করতে বড় নৌকার কিছু মালামাল পাই।’
কার্পাসডাঙ্গা এলাকার প্রবীণ মোজাম্মেল হক জানান, এই নদীতে ব্রিটিশদের যাতায়াত ছিল। বাবাদের কাছে শুনেছি সেই সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় জাহাজটি নদীতে ডুবে গেছে। পরে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখন মাটি কেটে নদী খনন করায় সেই ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া মানুষের শরীরের কিছু হাড় পাওয়া গেছে। এই জাহাজে মূল্যবান সম্পদ থাকতে পারে।
কোমরপুর গ্রামের প্রবীণ মুফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবার কাছে শুনেছি এখানে ঝড়ে একটি সাহেবদের জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। আমার দাদা সাহেবদের কর্মচারী ছিলেন।’
কার্পাসডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল ইসলাম জানান, ভৈরব নদ দিয়ে কার্পাসডাঙ্গা থেকে কলকাতায় বাণিজ্য করতো ব্রিটিশরা। প্রাকৃতির দুর্যোগ বা কোনো দুর্ঘটনায় হয়তো ডুবে যেতে পারে জাহাজটি। এই জাহাজে মূল্যবান সম্পদ থাকতে পারে। মাটি খনন করলে হয়তো আরও মূল্যবান সম্পদ পাওয়া যেতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, কার্পাসডাঙ্গা থেকে কলকাতায় নদী পথে বাণিজ্য হতো। এখানে বড় বড় নৌকা ও জাহাজ ভিড়তো। ভৈরব নদের মধ্যে পাওয়া ব্রিটিশদের এই মালামাল প্রত্নতত্ত বিভাগের নজরে আনা জরুরি। গবেষণায় জানা যাবে এটি কী এবং এর রহস্য ও ইতিহাস।
কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস জানান, উদ্ধার হওয়া জাহাজের অংশটি বেশ পুরোনো। আপাতত জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও মানুষের হাড় উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখার জন্য দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউএনও তাছলিমা আক্তার জানান, ভৈরব নদের মধ্যে পাওয়া ব্রিটিশদের এই মালামালের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যেগুলো পাওয়া গেছে সাবধানতা অবলম্বন করে ও যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করতে হবে। আপাতত ইউনিয়ন পরিষদে রাখার জন্য রাখার জন্য চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

