যশোরে মাঝরাতে বিকট শব্দে আতঙ্ক: উৎসবের নামে ‘আতশবাজি’ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর বুধবার গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা যশোর শহর। একের পর এক বিস্ফোরণের মতো আওয়াজে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ঘুমন্ত মানুষ। কেউ ভেবেছিলেন বোমা হামলা, কেউবা বড় কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা। টানা ৮ মিনিট ধরে চলা এই ‘আতশবাজি’ উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে এখন বইছে সমালোচনার ঝড়।
জানা গেছে, এনজিও জাগরণী চক্রের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শহরের মুজিব সড়কে এই আতশবাজির আয়োজন করা হয়। তবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গভীর রাতে এমন বিকট শব্দের উৎসবকে ‘চরম দায়িত্বহীনতা’ বলে অভিহিত করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
রাত ১১টার পর হঠাৎ শুরু হওয়া এই শব্দে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে যশোরে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় সাধারণ মানুষ এমনিতেই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে অনেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এবং কোতোয়ালি থানায় ফোন করে আতঙ্কের কথা জানান।
রেলগেট এলাকার বাসিন্দা মুক্তি বলেন, “হঠাৎ শব্দে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে পড়ে গিয়েছিলাম।” ক্ষোভ প্রকাশ করে আশরাফুল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “উৎসব করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু মানুষের ঘুম আর জননিরাপত্তার কথা মাথায় রাখা উচিত ছিল।”
পুলিশ ও আয়োজকদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আয়োজক কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্যের
* জাগরণী চক্রের দাবি: সংস্থার ডেপুটি ডাইরেক্টর কাজী মাজেদ নেওয়াজ জানান, এটি তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবগত করেই এই আতশবাজি পোড়ানো হয়েছে।
* পুলিশের ভাষ্য: যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহসান হাবীব জানান, আতশবাজির জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পুলিশও প্রথমে বিষয়টি জানত না। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হন।
* থানার পদক্ষেপ: কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ৯৯৯-এ একের পর এক ফোন আসায় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং এসআই আলামিন ঘটনাস্থল শনাক্ত করেন।

সচেতন মহলের মতে, বড়দিন বা থার্টি ফার্স্ট নাইটের মতো উৎসবে যেখানে আতশবাজি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি থাকে, সেখানে একটি এনজিওর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কীভাবে এত বিকট শব্দে আতশবাজি ফোটানো হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গভীর রাতে জনমনে ভীতি সঞ্চার করা কোনোভাবেই উৎসবের অংশ হতে পারে না বলে মনে করছেন যশোরের সাধারণ মানুষ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ