যশোরে দুর্নীতির দায়ে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার কারাদণ্ড

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দি মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড যশোরের অভয়নগর নওয়াপাড়া শাখার সাবেক ম্যানেজার রেশাদ মোহাম্মদ আব্দুল আজিমকে দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে আত্মসাতকৃত ৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩মার্চ) স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতে বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এই রায় দিয়েছেন। রায় প্রদানকালে পলাতক থাকায় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্ত (চাকরিচ্যুত) রেশাদ মোহাম্মদ আব্দুল আজিম খুলনার শেরে বাংলা রোডের বানিয়াখামার এলকার মৃত শেখ শতকত আলীর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রেশাদ মোহাম্মদ আব্দুল আজিম দি মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড নওয়াপাড়া বাজার শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী ও শেখ আবুল হোসেনের সহযোগিতায় ব্যবস্থাপক ৪০ লাখ ৮৬ হাজার ৪২৭ টাকা আত্মসাত করেন। যা ২০১২ সালের ৪ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ অডিটেধরা পড়ে।

এব্যাপারে তৎকালীন ম্যানেজার সুলতান হোসেন ২০১৩ সালের ৬ জুন ওই তিনজনের বিরুদ্ধে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত যশোরে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আসামি ব্যবস্থাপক রেশাদ মোহাম্মদ আব্দুল আজিম ২৪ জন গ্রহকের বিনিয়োগ বিতরণের সময় স্বাক্ষরিত অলিখিত চেক রেখে দেন। ২০১১ সালের ২৪ জুলাই থেকে ১২ সালের ১৭ মে পর্যন্ত তিনি ওই চেকগুলো নগদায়ন করে ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৭২০ টাকা আত্মসাত করেন।

অডিটে বিষয়টি ধরা পড়লে তিনি ৪০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেন। তারপরও ব্যবস্থাপক রেশাদ ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৫ টাকা আত্মসাত করেন। এ মামলার সাক্ষীদের বক্তব্য ও অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায়।

২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামি রেশাদ মোহাম্মদ আব্দুল আজিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

অপর দুই আসামির ইদ্রিস আলী ও শেখ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় চার্জশিট তাদের অব্যহতির আবেদন করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি রেশাদ মোহাম্মদ আব্দুল আজিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ