নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে তিনদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে গরু ও মুরগির মাংসের দাম। এমনকি হঠাৎ বৃষ্টি এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে শীতকালীন শাকসবজির। মাংস বিক্রেতাদের দাবি গবাদি পশু প্রতিপালনে খাদ্য এবং খামারের ব্যয় বাড়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে মাংসের দাম। এদিকে দুদিন আগে বৃষ্টিতে ক্ষেতের শাকসবজির ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করছে বিক্রেতারা।
সরেজমিনে রবিবার ( ৬ ফেব্রুয়ারি) যশোর শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এবং বড়বাজার কাঠেরপুল ঘুরে দেখা যায় বাজারে সকল দ্রব্যের দাম উর্ধ্বগতি। বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬শ’ ২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১শ’ ৬০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ২শ’ ৬০ থেকে ২শ’ ৬৫ টাকা। এ বাজারের তুলনায় বড়বাজারে মাংসের দাম কিছুটা কম। বড়বাজারের কাঠেরপুলে প্রতি কেজি গুরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকা করে। খসির মাংস প্রতি কেজি ৯শ’ টাকা এবং বড়বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি দেড়শ এবং লেয়ার প্রতি কেজি আড়াইশ’ টাকা করে।
বিসমিল্লাহ বিফ হাউজের মালিক আনোয়ার আনু বলেন, বিচালি প্রতি কাউন ৭ হাজার টাকা, খৈল প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ভূষি প্রতি কেজি ৪০ টাকা আর বর্তমানে ঘাসের তো সংকট রয়েছেই। ফলে গবাদিপশু প্রতিপালনে ব্যয় বাড়ছে এবং বাজারে পশুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। যদি পশু খাদ্যের দাম কমে তাহলে মাংসের দাম তুলনামূলক কমে আসবে। তবে এর সম্ভাবনা কম।
রাব্বি বিফ হাউজের মালিক আব্দুল খালেক জানান, গত কয়েকদিন আগে ৫শ ৫০ করে ছিলো গরুর মাংসের কেজি এবং ৮শ’ করে ছিলো খাসির মাংসের কেজি। কয়েকদিনে গরুর মাংস ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা এবং খাসি ১শ’ টাকা প্রতি কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাঠেরপুলে মাংস ক্রেতা আবুল কালাম বলেন, আমি চারদিন আগে এখান থেকে ৫শ’ ২০ করে গরুর মাংস কিনেছি। গতকাল থেকে ৬শ’ থেকে ৬শ’ ২০ টাকা করে গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বড় বাজার ঘুরে জানা গেছে, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পাতাকপি প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাচা মরিচ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এদিকে যশোরের বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১শ’ ৬০ টাকা এবং খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১শ’ ৭০ থেকে ১শ’ ৮০ টাকা প্রতি লিটার দরে। ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৩৬ থেকে ৪০ টাকা।
সবজি বাজারে ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, শীতকালীন শাক সবজির দাম গত দুই তিনদিনের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নিন্ম আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। মাংসের দাম বৃদ্ধি দেখে মুরগি কিনতে গেলাম, সেখানেও দেখি চড়া দাম। এখন ডিম আর কিছু সবজি কিনে বাড়ি ফিরছি।
আরেক ক্রেতা আক্তারুল জানান, বাজারে শাক-সবজি বিক্রেতারা অজুহাত দেখাচ্ছে বৃষ্টি হয়েছে। তাই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
যশোরের খাজুরা কোদালিয়া বাজারের ফুলকপি চাষি জসিম বলেন, কদিন আগে যে বৃষ্টি হয়েছে এ বৃষ্টিতে শাক-সবজির গোড়া পঁচে গেছে। এজন্য কিছুটা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজারে যে তুলনায় বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধি করছে ওটা অতিরিক্ত।
অন্যদিকে, সারাদেশে ৬৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে যশোরের শাক-সবজি। বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ায় শুধু যশোর নয়; প্রভাব ফেলতে পারে রাজধানীসহ দেশের অন্য জেলায়।
জাগোবাংলাদেশ/এমআই

