নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ‘টোকেন স্লিপে’ অবৈধ যানবাহন হয় বৈধ 

আরো পড়ুন

জাগো বাংলাদেশ ডেস্ক : দেশের সব মহাসড়কে তিন চাকার থ্রি-হুইলার, নসিমন, করিমন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও যশোরাঞ্চলের মহাসড়কে এসব অবৈধ যানবাহন চলছে তো চলছেই। আর নির্বিঘ্নে চলছে যশোর-খুলনা মহাসড়কের বসুন্দিয়া-নওয়াপাড়া-ফুলতলা এলাকায়। নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাটিতে স্লিপ সিস্টেমের মাধ্যমে অবৈধ যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দিয়ে ঘুষের টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইজিবাইক চালকসহ স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি দিয়ে তৈরি করা টোকেন বা স্টিকার লাগানো থাকে অবৈধ যানবাহনের সামনে। হাইওয়ে পুলিশ দেখলেই বুঝতে পারবে সেটা থেকে তারা মাসোহারা পায়। ফলে চলতে পথে তাদের কখনোই গতিরোধ করা কিংবা থামানো হয় না। আর যেসব ইজিবাইকসহ অন্যান্য অবৈধ গাড়িতে ওই স্টিকার লাগানো থাকে না; তাদের ধরে জরিমানা অথবা টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরিবহন চালকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি সিদ্দিকুর রহমান সম্প্রতি যোগদানের পর থেকে সরকারের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও রিক্সা এবং ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলসহ অবৈধ ওই যানবাহনগুলো চলাচলে সহযোগিতা করে আসছেন। শুধু তাই নয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি ব্যবহার করে স্টিকার বানানো হয়েছে। যা নসিমন করিমনের সামনে ব্যবহার করে গাড়ি চিহ্নিত করে ঘুষের টাকা আদায় করা হচ্ছে। সূত্র মতে, বসুন্দিয়া থেকে ফুলতলা সড়কে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কোন অভিযান দেয়া হলে টোকেন সিস্টেমের গাড়ি আটক করা হয় না। এর বাইরে অন্য যানবাহনে মামলা দেয়া বা আটক করা হয়ে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, অভয়নগরের প্রেমবাগের আব্দুল হান্নান, ভাঙ্গাগেটের আনোয়ার হোসেন, নওয়াপাড়ার শহিদুল ইসলাম, ফুলতলা এলাকার রবিউল ইসলাম এবং বসুন্দিয়া এলাকার শহিদুল ইসলাম নামে বেশ কয়েকজনের মাধ্যমে টাকা আদায় করে। মাহেন্দ্র থেকে প্রতিমাসে ৫শ’ টাকা, ইজিবাইক থেকে ২শ’, নসিমন থেকে ২শ’, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান থেকে দেড়শ’ ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল থেকে নেয়া হয় দেড়শ’ টাকা করে। আদায়কৃত টাকার মধ্যে থেকে হাইওয়ে থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানকে প্রতিমাসে দেয়া হয় দেড় লাখ টাকা, ওই থানার দারোগাদের দেয়া হয় ১০ হাজার এবং সহকারী দারোগাদের দেয়া হয় মাত্র দুই হাজার টাকা করে।

এই ব্যাপারে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, আমি এই থানায় নুতন যোগদানের পর থেকে সকল ধরনের টোকেন সিস্টেম বন্ধ করার চেষ্টা করছি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ