বে ওভালে ১৩০ রানের লিডে থামল বাংলাদেশে

আরো পড়ুন

স্পোর্টস ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩০ রানের লিড নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করেছে বাংলাদেশ। বে ওভালে প্রথম টেস্টে নিউজিল্যান্ডের ৩২৮ রানের বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৫৮ রানে অলআউট হয়।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্তর অর্ধশতকের সঙ্গে ১০৪ রানের জুটি। এরপর পঞ্চম অধিনায়ক মুমিনুল হক এবং লিটন দাসের অর্ধশতকের সঙ্গে ১৫৮ রানের জুটি। আর ৭ম উইকেটে ইয়াসির আলী এবং মেহেদি মিরাজের ৭৫ রানের জুটি। প্রথম ইনিংসে এই তিন বড় জুটিতে ভর করে বাংলাদেশ ১৭৬.২ ওভারে ৪৫৮ রানে অলআউট হয় আর লিড পায় ১৩০ রানের।

১৫৬ ওভারে ৬ উইকেটে ৪০১ রান করে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল টাইগাররা। উইকেটে ২০ রানে মিরাজ আর ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন ইয়াসির। চতুর্থ দিনে এসেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দুই দুইবার এলবিডাব্লিউ হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান মেহেদি হাসান মিরাজ।

তবে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ফিরতে হচ্ছিল মেহেদি হাসান মিরাজকে। ১৫৯তম ওভারে বল হাতে আসেন রাচিন রবিন্দ্র। ওভারের দ্বিতীয় বলটি লেন্থে ফেলেন রবিন্দ্র, মিডল স্টাম্প বরাবর এগোতে থাকা বল সুইপ করতে গিয়ে মিস করেন মিরাজ। আর এতেই এলবিডাব্লিউ দেন আম্পায়ার। তবে মিরাজ বুঝতে পেরেছিলেন বল তার গ্লাভস ছুঁয়ে গেছে। তাই তো এক মুহূর্তও দেরি না করে নেন রিভিউ। রিভিউতে দেখা মেলে বল মিরাজের গ্লাভস ছুঁয়ে গেছে। এতেই রক্ষা পান এই অলরাউন্ডার।

পরের ওভারে বল হাতে আসেন নিল ওয়াগনার। ওই ওভারের তৃতীয় বলে ইন সুইং করে ভেতরে ঢুকলে মিরাজ ডিফেন্ড করতে পারেননি ঠিকমতো আর বল গিয়ে লাগে পায়ে। এবারেও জোরালো আবেদন, এবারেও আম্পায়ার দিলেন আউট। আর এবারও মিরাজের রিভিউ, দেখা গেল তার ব্যাটে এজ হয়েই পায়ে লেগেছে বল। আম্পায়ার আবারও পাল্টাতে বাধ্য হলেন নিজের সিদ্ধান্ত। পরপর দুই ওভারে দুইবার আউট হয়েও বেঁচে গেলেন মিরাজ।

এরপর কিছুটা দেখে শুনে খেলা শুরু করেন দুই টাইগার ব্যাটার। এর মধ্যে এই জুটি পূর্ণ করেন ৫০ রান। আর ১৬৬তম ওভারে এসে বোল্টকে বাউন্ডারি মেরে দলের লিড ১০০ পার করেন মিরাজ।

তবে দলের লিড ১০০ পেরোনোর পরে আর বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারেননি মিরাজ। অর্ধশতক থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে টিম সাউদির শর্ট লেন্থের অফসাইডের বেশ দূরের বল খেলতে গিয়ে টম ব্লান্ডেলের হাতে বন্দি হন মিরাজ। দলীয় ৪৪৫ রানে ফেরেন মিরাজ। এরপর স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫ রান যোগ হতেই পেরেন ইয়াসির আলী। ৮৫ বলে ২৬ রান করা ইয়াসির কাইল জেমিসনের বলে উইকেটের পেছনে ব্লান্ডেলের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন।

স্বীকৃত দুই ব্যাটার ফেরার পর রান আর বেশি বাড়েনি টাইগারদের। শরিফুল ১০ বলে ১ চারে ৭ আর তাসকিন ১২ বলে ১ চারে ৫ রান করে আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৪৫৮ রানে। শেষ ১৩ রানে বাংলাদেশ হারায় ৪টি উইকেট

কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। তিনটি উইকেট নেন নিল ওয়াগনার, দুটি উইকেট নেন টিম সাউদি আর একটি উইকেট নেন কাইল জেমিসন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

১ম ইনিংস : নিউজিল্যান্ড: ১০৮.১ ওভারে ৩২৮/১০ (লাথাম ১, ইয়াং ৫২, কনওয়ে ১২২, টেইলর ৩১, নিকোলস ৭৫, ব্লান্ডেল ১১, রবিন্দ্র ৪, জেমিসন ৬, সাউদি ৬, ওয়াগনার ০, বোল্ট ৯*) ; (তাসকিন ২৬-৭-৭৭-০, শরিফুল ২৫-৭-৬২-৩, ইবাদত ১৮-৩-৭৫-১, মিরাজ ৩২-৯-৮৬-৩, শান্ত ২-০-১০-০, মুমিনুল ৪.১-০-৬-২)।

বাংলাদেশ: ১৭৬.২ ওভারে ৪৫৮/১০; (জয় ৭৮, সাদমান ২২, শান্ত ৬৪, মুমিনুল ৮৮, মুশফিক ১২, লিটন ৮৬, ইয়াসির ২৬, মিরাজ ৪৭, তাসকিন ৫, শরিফুল ৭, ইবাদত ০*); (সাউদি ৩৮-৪-১১৪-২, বোল্ট ৩৫.২-১১-৮৫-৪, জেমিসন ৩৫-১১-৭৮-১, ওয়াগনার ৪০-৯-১০১-৩, রবিন্দ্র ২৮-৫-৬৭-০)।

জাগোবাংলাদেশ/পি

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ