নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আকিমুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিজ্ঞ বিচারক (জেলা জজ) নিলুফার শিরিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর বিচারক দণ্ডিতকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দন্ডিত আকিমুল ইসলাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নায়ড়া গ্রামের মৃত অহেদ আলীর ছেলে। নিহত হালিমা খাতুন যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালি গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। তবে এই রায়ে ন্যায়বিচার পাননি দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন আসামি আকিমুল ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, বেনাপোলের পুটখালি গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে হালিমা খাতুন যশোর সরকারি এমএম কলেজে লেখাপড়া করতেন। ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর আসামি আকিমুল ইসলামের সাথে পারিবারিকভাবে হালিমার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়েকে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, জামাই আকিমুলকে একটি স্বর্ণের আংটি, নগদ ১২ হাজার টাকা ও সংসারের যাবতীয় মালামাল দিয়ে দেন তার পিতা। কিছুদিন যেতে না যেতেই শ্বশুর বাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় আসামি আকিমুল তার স্ত্রী হালিমার কাছে ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। হালিমার নামে থাকা জমি বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা এনে দিতে বারবার পিতার বাড়িতে পাঠাতো আকিমুল। জমি বিক্রি করে যৌতুক দেয়া হবেনা জানতে পেরে আকিমুল তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সাথে কলহ করে পিতার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। হালিমাও তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ওই বছরের ২৬ মে আসামি আকিমুলের বড় ভাই কেতাব আলী পুটখালি গিয়ে যৌতুক বাবদ ১ লাখ টাকার চেক ও হালিমাকে নিয়ে বাড়ি আসে। ৩০ মে রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে অন্যান্য আসামিদের প্ররোচনায় আকিমুল তার স্ত্রী হালিমাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। এরপর পরিবারের সকলেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরদিন সকালে হালিমার পিতা লিয়াকত আলীসহ অন্যরা আকিমুলের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের লাশ ঘরে খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখে। এ ব্যাপারে প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ময়না তদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর আকিমুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের পিতা লিয়াকত আলী।
এ মামলাটি ঝিকরগাছা থানার এসআই কামাল হোসেন তদন্তের দায়িত্ব পান। তদন্তকালে তিনি নিহতের স্বামী আকিমুলকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন। আকিমুল আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আসামির দেয়া জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় নিহতের স্বামী আকিমুলকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটে মামলার অপর আসামি কেতাব আলী, ইনছার আলী ও সোরাব আলীকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
এ মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আকিমুলের বিরুদ্ধে স্ত্রী ও অনাগত সন্তান হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আকিমুলকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।
যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

