ডিহি ও নিজামপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের বাড়িতে এমপি আফিল উদ্দিন

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের শার্শার ডিহি ও নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে-পরে সহিংসতায় আহতদের দেখতে ও ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। তিনি বুধবার সকালে ডিহি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড শালকোনা গ্রামের নজরুল ইসলামের বাড়িতে আহতদের দেখতে যান। নির্বাচনের দিন শালকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মেম্বর প্রার্থী তরিকুল ইসলার তোতার নেতৃত্বে তার কর্মী সমর্থকরা অপর মেম্বর প্রার্থী শহিদুল ইসলামের কর্মী শালকোনা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন, সাজেদুল ইসলামের ছেলে রাসেল, ফজের আলীর ছেল ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান, আকবর আলীর ছেলে সুমন, আব্দুল গনির ছেলে তাহাজ্জেল, রহমত আলীর ছেলে ইয়াছিনকে অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলে এমপি আফিল উদ্দিন তাদের দেখতে যান।
এরপর তিনি ৭নং ওয়ার্ডে হামলার শিকার মেম্বর প্রার্থী কাদের মোল্লার কর্মী সমর্থক বাউন্ডারী গ্রামের সেফাতুল্লার ছেলে কওছার আলী, আব্বাস উদ্দীদের ছেলে হযরত আলী, মোহাম্মদ আলীর ছেলে রাব্বি হাসান, মোকলেচুর রহমানের ছেলে আমিরুল ইসলাম, মফিজুর রহমানের ফাহিম ও বাবুল হোসেনের ছেলে রেজাউল ইসলামকে দেখতে যান। সংসদ সদস্য পরে ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড পন্ডিতপুর শিশুতলার  মোড়ে ভোটের আগে মেম্বর প্রার্থী খানজাহান আলীর কর্মী সমর্থক ও কামরুজ্জামান জজ মিয়ার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে মারামারিতে আহতদের দেখতে যান। এমপি নির্বাচনী সহিংসতায় চন্দ্রপুর, খলিশাখালি ও পন্ডিতপুর গ্রামের আহত আয়ুব হোসেনের ছেলে জাকির, ওসমান মিঝির ছেলে মতিয়ার, আব্দুল ওহাবের ছেলে তরিকুল, জামাল ব্যাপারীর ছেলে আনসার, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আলাউদ্দীন ও আনোয়ার, আমির আলির ছেলে ইউসুফ, সিদ্দিকের ছেলে আলী আহম্মদ, নবীছদ্দীর ছেলে আমির আলী শিশুতলার মোড়ে আহতদের সাথে কথা বলেন ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। পরে তিনি মোড়ের পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এরপর নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নির্বাচনী সহিংসতা পরিহার করে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, শার্শা থানার ওসি বদরুল আলম খান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু,  উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, ১নং ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মুকুল ও ১০নং শার্শার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির উদ্দীন আহম্মদ তোতাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চৌগাছায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি
চৌগাছা প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় প্রতিনিয়তই হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করছে সার্কাসের মাহুতরা। এসব সার্কাস দলের মাহুতরা বিভিন্ন স্থানে সার্কাস দেখানোর ফাঁকে প্রায়ই চৌগাছা শহরে এভাবে চাঁদাবাজি করে থাকে বলে অভিযোগ। এতে চৌগাছা বাজারের হাজারের অধিক ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায় হাতি নিয়ে শহরের দোকানে দোকানে চাঁদাবাজি করে বেড়ানোর সময় কোন দোকানি চাঁদা দিতে না চাইলে হাতি দিয়ে বিভিন্নভাবে তাঁদের ভয় দেখানো হয়। বিশেষ করে দোকানে নারী ও শিশু ক্রেতা থাকলে দোকানের সামনে হাতি দাঁড় করিয়ে হাতি দিয়ে ডাকানো হয়। হাতির হুংকারে নারী ও শিশুরা ভয় পাবার কারণে বাধ্য হয়ে টাকা দেন দোকানীরা।
এদিকে হাতি নিয়ে প্রকাশ্যে রাজপথে এভাবে চাঁদাবাজিকালে শহরের রাস্তায় থাকা নারী ও শিশু এমনকি পুরুষরাও ভয়ে পালিয়ে এ দোকান ও দোকানে ঢুকে পড়েন। তবে কেউ বাধা দিতে সাহস পান না।
বুধবার দুপুরে এভাবে একটি হাতি নিয়ে দোকানে দোকানে চাঁদা তুলছিলেন হাতির এক মাহুত। তবে বারবার জানতে চাইলেও তিনি তাঁর নাম বলেন নি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুলনায় সার্কাস দেখাতে যাচ্ছেন। এসেছেন জয়পুরহাট থেকে। জয়পুরহাট থেকে খুলনায় যাচ্ছেন প্রধান সড়ক দিয়ে না গিয়ে চৌগাছায় এভাবে চাঁদা তুলছেন কেন জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা ইচ্ছা করে দিচ্ছেন তাঁদের কাছ থেকে নিচ্ছি।’
তবে বিষয়টি মিথ্যা দাবি করেছেন বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। তাঁরা বলেন এরা মিথ্যা বলে। প্রায়ই এরা এভাবে এসে চাঁদাবাজি করে থাকে। ১০ থেকে ১০০টাকা পর্যন্ত না দিলে তাঁরা দোকানের সামনে থেকে হাতি সরায় না। বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রায়ই এরা হাতি নিয়ে বাজারে দোকানিদের একপ্রকার জিম্মি করে টাকা আদায় করে থাকে। এমনকি সপ্তাহান্তে একবারও অনেক সময় এরা এসে থাকে। বাজারের এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এভাবে বন্যপ্রাণী দিয়ে ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় অন্যায়। প্রশাসনকে এসব বিষয়ে নজর দেয়া উচিৎ।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ