যশোরের রাজারহাট রেল ক্রসিং এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে সাড়ে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার ডাকাতির ঘটনায় আরও চারজন আসামিকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে একজন সাতক্ষীরার দেবহাটা থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য রায়হানুল হক। তিনি ডাকাতির সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে এই মামলায় মোট নয়জনকে আটক করা হলো।
যশোর জেলা পুলিশ আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য রায়হানুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
আটককৃতদের পরিচয় ও জবানবন্দি
গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন:
১. পুলিশ সদস্য রায়হানুল হক (কুষ্টিয়ার মীরপুর)।
২. গৌরাঙ্গ সরকার (সাতক্ষীরা সদর), পেশায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী।
৩. বিকাশ মজুমদার বাবু (সাতক্ষীরা সদর), পেশায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী।
৪. মাহিন রহমান শাওন (সাতক্ষীরা সদর)।
সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানুল হক ও মাহিন রহমান শাওন জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, রায়হানুল হক সাদা পোশাকে ডাকাতির সময় মোটরসাইকেলে তার সঙ্গী ছিলেন মাহিন রহমান শাওন। অন্যদিকে, জুয়েলারি ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ সরকার ও বিকাশ মজুমদার বাবু স্বর্ণ ক্রয়ের তথ্য ডাকাতদের গোপন সূত্রে সরবরাহ করেছিলেন।
ডাকাতির বিবরণ ও তদন্তের অগ্রগতি
গত ১৪ জুলাই, সাতক্ষীরার এক স্বর্ণ দোকানের মালিকের শ্যালক ও কর্মচারী যশোর থেকে স্বর্ণ কিনে প্রাইভেটকারে সাতক্ষীরার দিকে যাওয়ার সময় রাজারহাট রেল ক্রসিংয়ে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা কয়েকজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের গাড়ি থামায়। এরপর চোখ বেঁধে ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ১৯ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, নগদ ২৬ হাজার টাকা ও ৪টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
মামলার তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ প্রথমে নিশান হোসেন ও মো. উজ্জ্বল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে গলানো রূপে ৫ ভরি ১১ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে রতন শেখ ও মুসাব্বির হোসেন টুটুলকে পাকড়াও করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফ, ওয়াকি-টকি, কসটেপ এবং একটি সাদা প্রাইভেটকার উদ্ধার হয়।
তদন্তে আরও একজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার পর ডিবি পুলিশ জানতে পারে তিনি একটি অপহরণ মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন। তাকে এই ডাকাতি মামলায় শোন অ্যারেস্টের আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেওয়া হলে তার কাছ থেকেই পুলিশ কনস্টেবল রায়হানুল হকের নাম বেরিয়ে আসে।
পুলিশের মন্তব্য
* তদন্ত কর্মকর্তা অলোক কুমার দে জানান, এ মামলায় মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে এবং ৫ ভরি ১১ আনা সোনা উদ্ধার হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হলেও মাস্টারমাইন্ডদের একজন এখনো আত্মগোপনে রয়েছে, যাকে দ্রুত আটক করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
* যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, অপরাধী যেই হোক, যশোর জেলা পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে না।
* সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ রায়হানুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখবে।
যশোরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় আরও চারজন আটক:

