সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা আজ মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। কাঁসর, ঘণ্টা, শঙ্খ এবং উলুধ্বনিতে ভোর থেকেই মন্দিরগুলোতে উৎসবের আমেজ চলছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব শেষ হবে আগামী ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।
বোধন সম্পন্ন, মহাষষ্ঠীর আয়োজন
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীপঞ্চমীতে দেবীর বোধন (জাগ্রত) সম্পন্ন হওয়ার পর আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে মহাষষ্ঠীর মূল পর্ব।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নিয়ম অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় দেবীর বোধন পূজা সম্পন্ন হয়। মন্দিরের উপদেষ্টা পুরোহিত প্রণব চক্রবর্তী জানান, সাধারণত ষষ্ঠীতে সায়ংকালে দেবীর বোধন হলেও, এবার রোববার বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ষষ্ঠী তিথি শেষ হয়ে যাবে। ফলে তিথির বাধ্যবাধকতার কারণে শনিবার সন্ধ্যার আগেই বোধন সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, দক্ষিণায়নের কারণে দেবী নিদ্রিত থাকেন। তাঁকে জাগরিত করার জন্যই বিল্ববৃক্ষ (বেলগাছ) তলে বন্দনা পূজা করা হয়, কারণ বিল্ববৃক্ষে দেবী ছোট্ট কুমারীরূপে অবস্থান করেন। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে বেলগাছের তলে এই নিয়মাবলি অনুসরণ করা হয়।
দুর্গার আগমন ও প্রস্থান
নিয়ম অনুযায়ী, আজ মহাষষ্ঠীতে দুর্গা দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হয়েছে। সকালে বেলগাছ তলে দেবীর আবাহন, সংকল্প এবং ‘ত্রিনয়নী’ দুর্গা দেবীর নিদ্রা ভাঙিয়ে পূজার্চনার মাধ্যমে তাঁকে বরণ করা হয়।
এ বছর দেবী দুর্গা এসেছেন গজে (হাতি) চড়ে, যা শান্তি, সমৃদ্ধি ও শস্য-শ্যামলার প্রতীক। তবে পূজা শেষে দেবীর প্রস্থান হবে দোলায় (পালকি) চড়ে, যা সাধারণত মহামারী বা মড়কের ইঙ্গিত বহন করে।
আগামীকাল মহাসপ্তমীর দিন থেকে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি
চলতি বছর ঢাকায় ৭টি বেড়ে মোট ২৫৯টি মন্দির-মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর সারা দেশে মোট মণ্ডপের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি, যা গতবারের তুলনায় প্রায় হাজারখানেক বেশি।
পূজা মণ্ডপগুলোতে আপনার এবারের অভিজ্ঞতা কেমন?
শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব: দেবী দুর্গা এবার এসেছেন গজে

