দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ। একযোগে অপসারণ করা হয়েছে ১৪০ জন এনজিও কর্মীকে, যারা মূলত ‘বেতনবিহীন স্বেচ্ছাসেবক’ পরিচয়ে বিভিন্ন শাখায় সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এরা বছরের পর বছর ধরে কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে দখলদারিত্ব কায়েম করে অবৈধ অর্থ উপার্জনে জড়িত ছিলেন।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, এই এনজিও কর্মীরা কাস্টমস কমিশনারের অফিস থেকে শুরু করে শুল্কায়ন, মূল্যায়ন ও পরীক্ষণ শাখা পর্যন্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্তৃত্ব করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ঘুষ আদায়, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
নবনিযুক্ত কাস্টমস কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন যোগদানের পরপরই বিষয়টি আমলে নেন এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে এই গণঅপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই পদক্ষেপে বন্দরজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, “বহু বছর ধরেই আমরা এই এনজিও কর্মীদের অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছি। তারা সরকারি কোনো পদে না থেকেও এমনভাবে কর্তৃত্ব করত, যেন পুরো কাস্টমস তাদের নিয়ন্ত্রণে। এবার কমিশনার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
অভিযোগ রয়েছে, অপসারিত এনজিও কর্মীরা সংস্থার নামে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও বাস্তবে তারা কাস্টমস কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন। এদের কেউ কেউ অল্প সময়ে বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, দামি গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে, ব্যবসায়ীরা এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র অপসারণ যথেষ্ট নয়; অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

