ঢাকা, ২৬ এপ্রিল: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবন থেকে একটি ড্রোন (মনুষ্যবিহীন আকাশযান) উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সিটিটিসির সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ডিজিটাল ফরেনসিক টিম ড্রোনটি সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। কে বা কারা এই ড্রোন পাঠিয়েছে, তা নিয়ে চলছে তদন্ত। ঘটনার পর আসিফ নজরুলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী শনিবার রাতে দৈনিক সংগ্রামকে ড্রোন উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে রমনার হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনের বাগানের ঘাসের ওপর ড্রোনটি পড়ে থাকতে দেখেন মালী সালমা হক। তিনি তা আইন উপদেষ্টার পার্সোনাল অফিসার দেলোয়ার হোসেনের কাছে বুঝিয়ে দেন। পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রোনটি উদ্ধার করে সিটিটিসির টিম।
উদ্ধারকৃত ড্রোনটির মডেল dji Mavic Mini (Model: dji MT1SD25, Made in China)। ওজন মাত্র ২৪৯ গ্রাম। ড্রোনটিতে কোনো মেমোরি কার্ড পাওয়া যায়নি এবং নিরাপত্তার কারণে ব্যাটারি খুলে নেওয়া হয়েছিল। বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৫ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ২৯ মিনিটে ড্রোনটি অবতরণ করে। তবে অন্যান্য ক্যামেরায় এর কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি।
dji Mavic Mini ড্রোনের বৈশিষ্ট্য
উল্লেখ্য, dji Mavic Mini হলো চীনের নির্মিত একটি জনপ্রিয় কমপ্যাক্ট এবং পোর্টেবল ড্রোন। এটি ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে ১/২.৩” সেন্সর ক্যামেরা, ২.৭K ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা এবং ১২ মেগাপিক্সেলের স্থিরচিত্র ধারণের ক্ষমতা। ৩-অক্ষের গিম্বালের সাহায্যে চিত্র স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হয়। ড্রোনটি প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত আকাশে উড়তে সক্ষম এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়নস্থলে ফিরে আসার সুবিধা রয়েছে। এর ওজন কম হওয়ায় বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এটি নিবন্ধন ছাড়াই চালানো যায়।
ড্রোন ওড়ানোর আইনি বিধান
বাংলাদেশে ড্রোন চালনা নিয়ন্ত্রণে ২০২০ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করে। নীতিমালা অনুযায়ী ড্রোন চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত – ক, খ, গ, ঘ। এর মধ্যে বিনোদন, শিক্ষা ও গবেষণা, বাণিজ্যিক এবং রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে।
এছাড়া, ড্রোন চালানোর ক্ষেত্রে এলাকাভেদে গ্রিন, ইয়েলো এবং রেড জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর, সামরিক এলাকা ও উচ্চ নিরাপত্তা অঞ্চলে ড্রোন চালাতে অনুমতির প্রয়োজন হয়। আইন অনুযায়ী, ড্রোন আমদানির ক্ষেত্রেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
ড্রোনের ব্যবহার ও বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম ড্রোন উড্ডয়ন হয় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তৈরি ড্রোনটি সফলভাবে আকাশে ওড়ে।
বিশ্বব্যাপী ড্রোন ব্যবহারের একটি বড় অংশ সামরিক কাজে হলেও বর্তমানে বেসামরিক বিভিন্ন কার্যক্রমেও এর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। তবে যথাযথ আইন মেনে ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে নিরাপত্তা হুমকির শঙ্কা থেকেই যায়।
চাও তাহলে আমি একটা ছোট হাইলাইট বা “সংক্ষেপে মূল খবর” অংশও বানিয়ে দিতে পারি! চাইবে? 🌟

