৫০ হাজার টাকা নিয়েও সমাধান নয়, উল্টো মারধর! যুবদল নেতার বিরুদ্ধে কৃষকের অভিযোগ

আরো পড়ুন

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাসে ৫০ হাজার টাকা ও জমির কাগজপত্র নেওয়ার পর এক কৃষককে মারধর ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মো. আজাদ, আন্ডারচর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব। ভুক্তভোগী কৃষক মো. জহির আলম (৫১), পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের বাসিন্দা।

রোববার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের পুরাতন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জহির আলম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত সোমবার (১৫ এপ্রিল) আন্ডারচরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আজাদের বাড়িতে গেলে তিনি তাকে মারধর করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার (১৯ এপ্রিল) তা জনসম্মুখে আসে।

জহির আলম বলেন, তাদের পৈতৃক ২ একর ৯০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিল। ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মনসুর আহমেদ মায়া এক সময় জমি বর্গা নেওয়ার কথা বলে তা দখলে নেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর যুবদল নেতা আজাদ সমস্যা মেটানোর আশ্বাসে ৫০ হাজার টাকা ও জমির দলিল নেন। কিন্তু পরে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন।

জহির জানান, টাকা ও কাগজপত্র ফেরত চাইতে গেলে আজাদ প্রথমে তাকে মারধর করেন, যা তিনি ভিডিও করতে পারেননি। পরে দ্বিতীয়বারের মারধরের সময় মোবাইল চালু রেখে পকেটে রাখেন, যা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশের পর গত ১৭ এপ্রিল আজাদের নেতৃত্বে একটি দল আনন্দবাজার এলাকায় জহিরকে ঘিরে ফেলে ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. আজাদ বলেন, “ওই কৃষক আমাকে কোনো কাগজ বা টাকা দেয়নি—এমন স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও আমার কাছে আছে। উনার বাড়ি চন্দ্রগঞ্জ এলাকায়, তিনি আমার এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা করছেন। জমিটি নিয়ে দুইটি বাহিরের পক্ষ মালিকানা দাবি করছে। আমি শুধু তাকে বলেছি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ