যশোর শহরের দড়াটানা ও শেখহাটি এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাদ্যে ভেজাল মেশানোর অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানটির নেতৃত্ব দেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম।
অভিযানের শুরুতে শহরের দড়াটানা মোড়ের পরিচিত মুখ ‘নিউ ভৈরব হোটেল’-এ হানা দেয় আদালতের টিম। সেখানে দেখা যায় চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ফ্রিজের ভেতর পাওয়া যায় পুরোনো তেঁতুল ও সস তৈরির সন্দেহজনক সরঞ্জাম। এছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে হোটেলের লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় মালিকের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তাকে বৃহস্পতিবার সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
শেখহাটি এলাকার ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এ অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, মধুর সাথে সরাসরি চিনি মেশানো হচ্ছে। নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং অনুমোদনহীন লেবেল ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাহাবুব ইসলামের নামে মামলা দেওয়া হয়। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়।
একই সময়ে দড়াটানার ‘আদি ভৈরব হোটেল’-এ অভিযান চালানো হয়। সেখানে কিছু ছোটখাটো অনিয়ম পাওয়া গেলেও তা গুরুতর না হওয়ায় মালিক জনিকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেন আদালত।
অভিযান চলাকালে বিচারক আছাদুল ইসলামের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন:
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহমেদ ইমন। জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান।
সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মহিবুল ইসলাম।
আদালতের নাজির বিপ্লব আহমেদ ও বেঞ্চ সহকারী ফরহাদ হোসেন।
> নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার বার্তা: জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পরিবেশন বা খাদ্যে ভেজাল দিলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

