নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নৃত্যের ঝংকার আর সুরের মূর্ছনায় যশোরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন নৃত্য বিতানের ৩১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর টাউন হল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চ যেন নৃত্যের তাল লয় আর নূপুরের ছন্দে কাব্যময় হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা যতই গড়াতে থাকে শিল্পীদের তাল, লয়, সুর আর নূপুরের ঝংকারের সংমিশ্রণে আরো নতুন কিছু দেখার আকাঙ্খা বাড়তে থাকে নৃত্যপিয়াসী হৃদয়ে।
শীত যায় যায় সন্ধ্যায় তাই মঞ্চে শিল্পীদের নিমগ্নতা গভীর থেকে গভীরতর হয়। সেই সাথে মঞ্চের সামনে উপস্থিত সকলের অপলক দৃষ্টির মন্ত্রমুগ্ধতার সাথে বয়ে যায় পীন পতন নীরবতা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এদিন ঘুঙুরের ছন্দে মোহনীয় মন মাতানো নৃত্যের তালে মুগ্ধ দর্শকেরা বুঁদ হয়ে ছিলেন প্রায় তিন ঘণ্টা।
এর আগে অতিথিবৃন্দদের প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর পর শুরু হয় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার যশোরের উপ পরিচালক রফিকুল হাসান। এসময় তিনি বলেন, ‘নৃত্য একটি আদি শিল্প। এক কথায় মনের অভিব্যক্তিগুলোকে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তুলে ধরাই নৃত্য। যা প্রেমের, প্রতিরোধের, প্রতিবাদেরও মাধ্যম। অভিনয় ও শারীরিক কসরতে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের মাধ্যমে নৃত্যের বিশেষ ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা রয়েছে। দিনে দিনে নৃত্যের ধারা ও ঐতিহ্য বিচ্যুতি ঘটছে। সুষ্ঠু ও সুন্দর ধারার নৃত্যের মান বজায় রাখতে সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। নৃত্য সংগঠনের মধ্যে নৃত্য বিতান ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। নৃত্য চর্চ্চায় যশোরে নৃত্য বিতান অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।’
নৃত্য বিতানের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার বাবুর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন নৃত্য বিতান যশোরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সঞ্জীব চক্রবর্তী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মঞ্চে দেশ প্রেম, গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি, কখনও প্রতিবাদ, কখনো প্রেম আবার কখনো বিরহকাতর যুগলের গল্প নিয়ে একে একে ২৫টি গানে নৃত্য পরিবেশন করেন অর্ধশতাধিক সংগঠনের শিক্ষার্থী শিল্পী।
জাগো/জেএইচ

