নির্বাচনের ফলাফলে হস্তক্ষেপের মামলায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টি কারাগারে গ্রেফতার দেখানো হয়।
তবে গ্রেফতারের পর বেশিক্ষণ কারাবন্দি থাকতে হয়নি সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে। ২০ মিনিটের মতো কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হলেন ট্রাম্প।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো কারাগারে ট্রাম্পের মুখমণ্ডলের ছবি (মাগশট) নেয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। ইতোমধেই ট্রাম্পের মুখমণ্ডলের সেই ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। এছাড়া নথিতে ট্রাম্পের উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ৯৭ কেজি ৫০০ গ্রাম, চোখের রং নীল এবং চুলের রং সোনালী বা স্ট্রবেরি উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জামিনের পর আটলান্টা হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগের আগে বরাবরের মতো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গণমাধ্যমকর্মীদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি এবং এটা সবাই জানে।’ এছাড়াও তার বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি এই মামলাকে ‘প্রতারণা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
এর আগে গত সোমবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে দায়ের করা নির্বাচনি ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের কাছে মাত্র ১১ হাজার ৭৭৯ ভোটে হেরে যান ট্রাম্প। পরে ২০২১ সালের ২ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড রাফেনস্পার্জারকে ফোন করে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ট্রাম্প রাফেনস্পার্জারকে বলেন, তার জয়ের জন্য আরও ভোটের ‘ব্যবস্থা’ করতে। অবশ্য রাফেনস্পার্জার ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
এই ঘটনার চার দিন পর অর্থাৎ ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিল তথা পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালায় এবং বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা না দিতে দেশটির আইনপ্রণেতাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।

