প্রথম দিনের জ্বরেই যেভাবে বুঝবেন ডেঙ্গু হয়েছে

আরো পড়ুন

ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। বাড়ছে জটিলতা। যথাসময়ে যথাযথ পরীক্ষা করে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে বেঁচে যেতে পারেন যেকোনো জটিলতা থেকে। আসুন জেনে নিই কখন কোন পরীক্ষা করা উচিত-

১. নন স্ট্রাকচারাল প্রোটিন-১ / NS1:

NS1 একটি অ্যান্টিজেন। এটি দুইভাবে পরীক্ষা করা যায়। র‌্যাপিড কিট টেস্টিং এবং অ্যালাইজা পদ্ধতি। তবে র‌্যাপিড টেস্টিং কিটের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে করা যায় বলে এটি বেশি জনপ্রিয়। এটি উপসর্গ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পজিটিভ হয়। অপরপক্ষে অ্যালাইজা পদ্ধতি সব জায়গায় হয় না এবং এটি উপসর্গের প্রথম দিনে পজিটিভ হতে পারে।

তবে কিটের মানের দুর্বলতা এবং ভাইরাসের সম্ভাব্য মিউটেশনের (যদিও এটি প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়) দরুন ইদানিং ডেঙ্গু রোগীদের NS1 অ্যান্টিজেন নেগেটিভ আসে, আমরা একে ফলস নেগেটিভ বলে থাকি। আবার NS1 অ্যান্টিজেন কিটের কার্যকারিতা ৭০-৮০% তার মানে গড়ে প্রতি ১০০ জনে ২০-৩০ জনের NS1 নেগেটিভ হতে পারে।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের বেশির ভাগ DEN-2 সেরো টাইপে আক্রান্ত। DEN-2’তে আক্রান্তদের মাঝে NS1 নেগেটিভ হওয়ার সম্ভাব্যতাও বেশি। তবে চতুর্থ কিংবা পঞ্চম দিনে এটি প্রাকৃতিকভাবে নেগেটিভ হয়। সুতরাং NS1 টেস্ট উপসর্গের প্রথম ৪ দিনের মধ্যে করাই ভালো।

২. সিবিসি: ডেঙ্গু উপসর্গের প্রথম ৩ দিনের মধ্যে CBC পরীক্ষা করানো উচিত। তবে সেখানে যেন হেমাটোক্রিটের উল্লেখ থাকে। আবার যেদিন তাপমাত্রা নরমাল থাকবে সেদিনও CBC পরীক্ষা করিয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরাণপন্ন হওয়া উচিত।

রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা থাকলে প্রতিদিন CBC পরীক্ষা করাতে হবে। আর যদি ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম চিন্তা করা হয় তাহলে প্রতি ঘণ্টায় হেমাটোক্রিট পরীক্ষা করানো লাগতে পারে। অনুচক্রিকা বা প্লাটিলেট একবার বাড়তে শুরু করলে এবং ৫০ হাজারের বেশি হলে আর প্রতিদিন CBC পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন পড়ে না।

৩. ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি টেস্ট: ডেঙ্গুর দুই ধরনের অ্যান্টিবডি টেস্ট করা যায়।

ক. ডেঙ্গু IgM অ্যান্টিবডি- এটি ডেঙ্গু আক্রান্তের পঞ্চম দিন থেকে রক্তে পাওয়া যায় এবং সপ্তম দিনে সর্বোচ্চ মাত্রায় উপস্থিত থাকে। তবে তিন মাস পর্যন্ত এটি অল্প মাত্রায় রক্তে পাওয়া যেতে পারে।

খ. ডেঙ্গু IgG অ্যান্টিবডি টেস্ট: ডেঙ্গু আক্রান্তের নবম কিংবা দশম দিন থেকে IgG অ্যান্টিবডি রক্তে পাওয়া যায়। এবং এটি কয়েক যুগ অল্প মাত্রায় থাকতে পারে। প্রথমবার আক্রান্তদের IgG বেশি পাওয়া যায় আর একাধিকবার আক্রান্তদের ক্ষেত্রে IgG বেশি পাওয়া যায়। এসব পরীক্ষা ছাড়াও SGPT, SGOT পরীক্ষা করা যেতে পারে।

সর্বোপরি কথা হলো- দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথম তিন দিনের মধ্যে NS1 Ag, CBC, SGPT, SGOT পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে হ্যাঁ, সেটি যেন অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ সাপেক্ষে করা হয়। এগুলোর ডেঙ্গু নির্ণয় এবং চিকিৎসা দ্রুত সময়ে শুরু করা যায়।

লেখক: চিকিৎসক এবং গবেষক। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হিউমান এইড

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ