শ্রাবণের ভরা পূর্ণিমায় সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল রয়েছে সাগর। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি কয়েক ফুট উচ্চতায় আছড়ে পড়ছে তীরে। ঢেউয়ের তোড়ে বরগুনার তালতলীর একমাত্র পর্যটনকেন্দ্র শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের কোলঘেঁষা ঝাউ গাছের নিচ থেকে বালু সরে যাওয়াতে তিন কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কমছে সৈকতের আয়তন।
শুক্রবার বিকেলে জোয়ারের বাড়ন্ত পানির তীব্র ঢেউয়ে তলিয়ে গেছে সৈকতের কয়েক কিলোমিটার ঝাউবন। এতে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা কয়েক হাজার ঝাউবনসহ বিভিন্ন গাছপালা সাগরে ভেসে যায়। দ্রুত সৈকতের ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ বসাতে না পারলে সৈকতের তীরে ভাঙন আরো তীব্র হবার আশঙ্কা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে তালতলীর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদরুদ্দোজা শুভর নাম অনুসারে সৈকতটির নামকরণ করা হয়। এই উপজেলার নলবুনিয়া এলাকায় বিশাল বালুভূমিতে পিকনিক স্পট তৈরি হয়। এরপর এই স্থানটির পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে বেশি সময় লাগেনি। এখানে প্রতিদিন দেশি-বিদেশী পর্যটকের ভিড় জমে।
শনিবার (৫ আগস্ট) শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, সৈকতের প্রতিটি ঝাউ গাছের নিচ থেকে বালু সরে গেছে। সৈকত ঘেঁষা বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির শতশত গাছ উপড়ে পড়ে আছে। এই ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ পর্যটন এলাকা দ্রুতই বিলুপ্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে তেমনি পর্যটকশূন্য হয়ে যাবে সৈকতটি।
একাধিক পর্যটক জানান, এই শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতটি কুয়াকাটার চেয়েও অনেক বড়। তবে এখানে আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগাান্তিতে পড়তে হয়। তাছাড়া যে পরিমাণ ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে এটা বিলুপ্ত হতে বেশি সময় লাগবে না। আমাদের দাবি দ্রুতই বিচ রক্ষাসহ এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
নাজমুল নামের এক পর্যটক বলেন, গত কয়েক দিন আগে এই শুভ সন্ধায় আসি, তখন যা দেখেছি তার কিছুই নেই এখন। প্রতিনিয়তই ঝাউবনসহ বিভিন্ন গাছপালা সাগরে ভেসে যাচ্ছে। আজকের ঢেউয়ে অনেক নতুন নতুন স্থান ভেঙ্গে গেছে।
তালতলী রেঞ্জ অফিসার মনিরুজ্জামান জানান, গত তিনদিন যাবৎ জোয়ারে অস্বাভাবিকভাবে সাগরের পানি বেড়েছে। অন্য সময়ের চেয়ে ঢেউ কয়েক ফুট উঁচু হয়ে তীরে আছড়ে পড়ছে। শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ ঝাউগাছ উপড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় সৈকতের ভাঙন নিয়ন্ত্রণে জিও ব্যাগের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, সমুদ্র সৈকতটি রক্ষায় একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পাশ হলেই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

