ডেঙ্গু: আগস্ট-সেপ্টেম্বরে চূড়ায় ওঠার শঙ্কা

আরো পড়ুন

দেশে ফের উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা।

ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই গত পাঁচ বছরের হিসাব টপকে বেশ বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৯১৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণরা বলছেন, আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারা বলছেন, আগস্ট মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। কারণ একদিকে বৃষ্টি, আর ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় অনেক বাসাবাড়িও বন্ধ রয়েছে। এতে পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমা হয়েছে, যার মধ্যে এডিস মশা ডিম পাড়বে। এই ডিমগুলো ফুটে লার্ভা, পিউপা ও উড়ন্ত মশায় পরিণত হবে।

ঈদের ছুটিতে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে মশার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কম থাকায় মশার ঘনত্ব বেড়ে যাবে। এর ফলে ঈদ-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থেকে পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার ওপর নজর দিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর পরামর্শ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। মানুষের অসচেতনতা ও গৎবাঁধা কার্যক্রমের কারণেই এ সমস্যার কোনও সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

ডেঙ্গু নিয়ে সামনে আরেকটা বড় দুর্যোগ অপেক্ষা করছে বলেও তারা জানান। বলেন, আগে এই রোগটিকে শহুরে রোগ বলা হলেও ২০২২ সালের পরিসংখ্যান বলছে রোগী বাড়ছে রাজধানী ঢাকার বাইরেও। শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও। গেল বছর মোট ৬২ হাজার ৩৮২ ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকার বাইরের রোগী ছিল ২৩ হাজার ১৬২ জন। এর বাইরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিতে যা ছিল ১৫৩৫২ জন। এ বছরও ঢাকা শহর ও ঢাকার বাইরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, জুন মাসে সারা দেশে সর্বমোট ৫ হাজার ৯৫৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৩৪ জন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৬৬ জন, মার্চ মাসে ১১১, এপ্রিল মাসে ১৪৩ এবং মে মাসে ১ হাজার ৩৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই ৫ মাসে মোট ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২২ জনের। এদিকে শুধু জুন মাসে দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় প্রায় ৬ হাজার জনের। সে হিসেবে বছরের প্রথম ৫ মাসের তুলনায় এক মাসেই (জুন) ডেঙ্গু শনাক্ত হয় প্রায় তিনগুণ।

ডেঙ্গুতে শিশু-তরুণেরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘ডেঙ্গুর ধরন চারটি। ডেনভি ১, ডেনভি ২, ডেনভি ৩ এবং ডেনভি ৪। যারা ১৫ বছর আগে ডেনভি ১,১২ বছর আগে ডেনভি ২ এবং ৮ বছর আগে ডেনভি ৩ ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন তারা এবার শুধু ডেনভি ৪ ধরনে আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে। আর যারা শিশু-তরুণ তারা কিন্তু এর আগে আক্রান্ত হয়নি। কিংবা আক্রান্ত হলেও একবার আক্রান্ত হয়েছে। তাই তাদের আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি। আক্রান্তের সংখ্যা যেহেতু বেশি তাই শিশু-তরুণদের মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ